মালদায় চালু রাজ্যের প্রথম হোল্ডিং সেন্টার, রাখা হলো ৯ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে অনুপ্রবেশ সমস্যা রুখতে বড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। মালদার ইংলিশবাজারের চন্দন পার্কে চালু হয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গের প্রথম ‘হোল্ডিং সেন্টার’। উদ্বোধনের প্রথম দিনেই এই কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে ৯ জন সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিককে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের মধ্যে ৩ জন মহিলা এবং ৬ জন নাবালক রয়েছে। সম্প্রতি মালদার গাজোলের পাণ্ডুয়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়েছিল। রবিবার তাদের এই নতুন সেন্টারে স্থানান্তরিত করা হয়।
কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপ ও নজরদারি
নতুন এই হোল্ডিং সেন্টারটিকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তার বলয় তৈরি করেছে প্রশাসন। গোটা চত্বর মুড়ে ফেলা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরায়। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রটির সুরক্ষায় আপাতত ১২ জন পুলিশকর্মী, ৩ জন সিভিল ডিফেন্স ভলান্টিয়ার এবং ৩ জন সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়াও আবাসিকদের সুবিধার্থে একজন রাঁধুনি রাখা হয়েছে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর ইতিমধ্যেই সমস্ত জেলাশাসককে এই ধরণের হোল্ডিং সেন্টার তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়ার পরই এই তৎপরতা শুরু হলো।
রাজনৈতিক তরজা ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই হোল্ডিং সেন্টার চালুর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। কেন্দ্রের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, এটি আসলে ‘ডিটেনশন ক্যাম্প’। তৃণমূল নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছে যে তারা এই ধরণের শিবিরের তীব্র বিরোধী। তাদের মতে, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানোর মূল দায়িত্ব বিএসএফের এবং সন্দেহভাজনদের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া মেনে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হোল্ডিং সেন্টার চালুর ফলে সীমান্ত জেলাগুলিতে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণ এবং তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সুসংহত হতে পারে। তবে এর আইনি ও মানবিক দিক নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আগামী দিনে আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
