‘মা, ওরা আমাকে মারছে…’ হোম-স্টেতে রহস্যমৃত্যু ছাত্রীর, প্রেমে ফাঁদে খুনের অভিযোগ! – এবেলা

‘মা, ওরা আমাকে মারছে…’ হোম-স্টেতে রহস্যমৃত্যু ছাত্রীর, প্রেমে ফাঁদে খুনের অভিযোগ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

গুয়াহাটি: “মা, ওরা আমাকে খুব মারছে! চরম হেনস্থা করছে… মেরে ফেলবে।” রাত ২টো নাগাদ ফোনের ওপার থেকে ভেসে এসেছিল মেয়েটির হাউহাউ করে কান্নার শব্দ। তার পরেই কেটে যায় সংযোগ। সেটাই ছিল পরিবারের সঙ্গে ২২ বছরের ওই তরুণীর শেষ কথা। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই গুয়াহাটির এক হোম-স্টে থেকে উদ্ধার হলো গৌহাটি ইউনিভার্সিটির ওই ছাত্রীর আশঙ্কাজনক দেহ। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনা ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পুলিশ আটক করেছে নিহতের ২৬ বছর বয়সী প্রেমিক আশিক আলিকে। ঘটনার পিছনে ‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয়রা।

ঠিক কী ঘটেছিল? পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার বিকেল ৫টা নাগাদ বন্ধুদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে বের হন ওই তরুণী। রাত ১০টা নাগাদ মাকে ফোন করে জানান, অনেক রাত হয়ে যাওয়ায় তিনি আর বাড়ি ফিরবেন না; গৌহাটি ইউনিভার্সিটির হস্টেলে এক বান্ধবীর কাছে থাকবেন। কিন্তু রাত ২টোর সময় ঘটে সেই মর্মান্তিক ঘটনা। মায়ের ফোনে কেঁদে উঠে নিজের প্রাণনাশের আশঙ্কা প্রকাশ করেন তরুণী। এর পরেই তাঁর ফোন বন্ধ হয়ে যায়।

বিপদ আঁচ করে তড়িঘড়ি থানায় ছোটেন তরুণীর বাবা-মা। পুলিশ ফোন লোকেশন ট্র্যাক করে জানতে পারে তরুণী গরল প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রয়েছেন। সেখান থেকে তাঁকে গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

প্রেমিকের দাবি বনাম বাবার অভিযোগ: পুলিশ জানিয়েছে, গুয়াহাটির শহরতলি ধারাপুর-গরল এলাকার একটি হোম-স্টের ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় ওই তরুণীকে। পুলিশ ও হোম-স্টে কর্তৃপক্ষের দাবি, ঘটনার সময় ১০ নম্বর ঘরে তরুণীর সঙ্গে তাঁর প্রেমিক আশিক আলি উপস্থিত ছিলেন। রাত আড়াইটে নাগাদ ঘর থেকে আশিকের কান্না শুনে কর্মীরা ছুটে গিয়ে দেখেন তরুণী অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। আশিকের দাবি, তরুণী গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

তবে এই দাবি মেনে নিতে নারাজ নিহতের পরিবার। তরুণীর বাবার স্পষ্ট অভিযোগ, “যেভাবে আমার মেয়ে ফোন করে কাঁদছিল এবং ওর শরীরে যে আঘাতের চিহ্ন মিলেছে, তাতে পরিষ্কার যে ওকে নৃশংস অত্যাচার ও গণধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে।”

তদন্তে বিস্ফোরক তথ্য: পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, হস্টেলে থাকার কথা বললেও ওই তরুণী আদতে প্রেমিকের সঙ্গেই হোম-স্টেতে গিয়েছিলেন। চলতি মাসেই অন্তত ৫ বার আশিকের সঙ্গে ওই একই হোম-স্টেতে থেকেছেন তিনি। তবে নিয়ম মেনে তাঁদের কোনো আইডেন্টিটি প্রুফ (ID Proof) চেক করা হয়নি বলে অভিযোগ। গাফিলতির কারণে আপাতত হোম-স্টেটি সিল করে দিয়েছে পুলিশ।

গুয়াহাটির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার বোলিন ডেওরি জানিয়েছেন, সিআইডি এবং ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে।

এদিকে, ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয় এলাকায়। শনিবার সন্ধ্যায় তরুণীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হলেও ‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগ তুলে দোষীদের কড়া শাস্তির দাবিতে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *