মিড ডে মিলে ডিমের বদলে নিরামিষের গেরো? বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতেই কি ব্রাত্য ‘সুপারফুড’? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: ‘সানডে হো ইয়া মনডে, রোজ খাও আন্ডে’—প্রোটিনের জোগান নিশ্চিত করতে একসময় এই মন্ত্রই ছিল মিড ডে মিলের অন্যতম ভিত্তি। কিন্তু বর্তমানে দেশের স্কুলগুলির মেনু থেকে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে ডিম। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা যাকে ‘সুপারফুড’ হিসেবে চিহ্নিত করেন, সেই ডিমকে নিয়ে রাজনীতির জল কতদূর গড়িয়েছে, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন উঠছে।
পরিসংখ্যান কী বলছে?
দেশের ২৮টি রাজ্য ও ৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ১৪টি জায়গায় স্কুলের মিড ডে মিলে ডিম দেওয়া হয়। একসময় এই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ থাকলেও, নতুন করে পাইলট প্রজেক্টের নামে ইশকনের (ISKCON) মাধ্যমে ডিমহীন নিরামিষ খাবারের জল্পনায় বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
বিজেপি বা তাদের জোটসঙ্গীদের শাসিত ২২টি রাজ্যের মধ্যে মাত্র ৫টিতে (আসাম, ওড়িশা, উত্তরাখণ্ড, বিহার এবং মহারাষ্ট্র) নিয়মিত ডিম দেওয়া হয়। যদিও মহারাষ্ট্রে সরকারি তহবিল বন্ধ করে স্কুলগুলিকে নিজস্ব উদ্যোগে ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। অথচ দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতে (তামিলনাড়ু, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা ও কর্নাটক) সরকার যে দলেরই হোক না কেন, শিশুদের পুষ্টির খাতিরে ডিমের মেনু অটুট।
ডিম নিয়ে রাজনীতির নজির:
- ছত্তিশগড়: ২০২৩ সালে বিজেপি ক্ষমতায় ফেরার পর ডিমের বদলে মিলেট-ভিত্তিক পুষ্টি কর্মসূচিতে জোর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
- গোয়া: ২০২২ সালে ডিম চালুর উদ্যোগ নিলেও ধর্মীয় আপত্তির মুখে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হয়।
- মধ্যপ্রদেশ: কংগ্রেস সরকারের সময় ডিম চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হলেও, সরকার বদলের পর তা আর বাস্তবায়িত হয়নি।
কেন ডিম অপরিহার্য?
পুষ্টিবিদ ও শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম শিশুদের প্রোটিনের সবথেকে সাশ্রয়ী উৎস। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউট্রিশনের তথ্য অনুযায়ী, ডিমের প্রোটিনের জৈব-উপলব্ধতা (Bio-availability) প্রায় ৯৪ শতাংশ, যা ছোলা (৭৬%) বা সয়াবিনের (৫৪%) তুলনায় অনেক বেশি। পাশাপাশি শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ ও শারীরিক বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও অ্যামিনো অ্যাসিডের প্রধান উৎস এই ডিম।
বিরোধীদের মতে, একে ‘নিরামিষভোজী রাজ্য’ করার এক গোপন অভিসন্ধি। অন্যদিকে, পুষ্টিবিদদের উদ্বেগ, রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বিতর্কের জেরে শিশুদের পাতে পুষ্টির জোগান কমিয়ে দেওয়া কি আদৌ যুক্তিসঙ্গত? প্রশ্ন উঠছে—শিশুর স্বাস্থ্য বড়, নাকি রাজনীতির বিতর্ক?
