মীন রাশিতে তৈরি হওয়া বিষ যোগে বিপাকে ৪ রাশি, আগামী ৪৮ ঘণ্টা থাকতে হবে চরম সতর্ক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী আজ ১০ জুন থেকে শুরু হয়েছে ক্ষতিকর ‘বিষ যোগ’, যা আগামী ১১ জুন পর্যন্ত স্থায়ী হবে। জন্মকুণ্ডলীতে বা গ্রহের গোচরের সময় যখন শনি ও চন্দ্রের মিলন ঘটে, তখনই এই বিষ যোগের সৃষ্টি হয়। এবারের সংযোগটি ঘটছে মীন রাশিতে। জ্যোতিষশাস্ত্রে চন্দ্রকে মনের কারক এবং শনিকে শৃঙ্খলা ও কর্মের কারক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে এই দুই গ্রহের অশুভ মিলন সরাসরি মানুষের মানসিক অবস্থা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই যোগের প্রভাবে বিশেষ করে ৪টি রাশির জাতক-জাতিকাদের আগামী ৪৮ ঘণ্টা অত্যন্ত সাবধানে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন জ্যোতিষীরা।
আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক উদ্বেগের মুখে মেষ, কন্যা ও কুম্ভ রাশি
এই বিষ যোগের প্রভাবে মেষ রাশির জাতকদের দ্বাদশ ভাব অর্থাৎ ব্যয় ও মানসিক উদ্বেগের স্থান প্রভাবিত হচ্ছে। এর ফলে হঠাৎ বড় ধরনের আর্থিক খরচের মুখোমুখি হতে পারেন তারা। এই সময়ে নতুন কোনো বিনিয়োগ না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, অন্যথায় বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সেই সঙ্গে অনিদ্রা বা চোখের সমস্যায় ভুগতে পারেন মেষ রাশির জাতকরা। অন্যদিকে, কন্যা রাশির সপ্তম ভাব অর্থাৎ অংশীদারিত্ব ও দাম্পত্যের স্থানে এই যোগ গঠিত হওয়ায় জীবনসঙ্গী বা ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি থেকে বড় বিবাদ হতে পারে। কর্মক্ষেত্রেও যেকোনো ধরনের তর্ক-বিতর্ক এড়িয়ে ধৈর্য ধরা অত্যন্ত জরুরি।
কুম্ভ রাশির ক্ষেত্রে এই প্রভাব পড়ছে ধন-সম্পদ ও বাকশক্তির ওপর। সঞ্চিত অর্থ কমে যাওয়ার পাশাপাশি আটকে থাকা টাকা পাওয়ার পথ আরও জটিল হতে পারে। এই রাশির জাতকদের কথার ভুল ব্যাখ্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকায় কথা বলার সময় অতিরিক্ত সতর্ক হতে হবে।
সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত মীন রাশি
যেহেতু মীন রাশিতেই এই বিষ যোগের সৃষ্টি হচ্ছে, তাই এই রাশির জাতক-জাতিকারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। আগামী ৪৮ ঘণ্টা অজানা ভয়, চরম উদ্বেগ বা নেতিবাচক চিন্তা তাঁদের গ্রাস করতে পারে। মানসিক অস্থিরতার কারণে এই সময়ে কোনো বড় বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। পাশাপাশি কথাবার্তায় নিয়ন্ত্রণ না রাখলে প্রিয়জনদের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে।
নেতিবাচক প্রভাব এড়ানোর উপায়
জ্যোতিষবিদদের মতে, এই বিষ যোগের অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে কিছু ধর্মীয় ও মানসিক সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। চন্দ্র ও শনি—উভয় গ্রহের অশুভ দৃষ্টি এড়াতে ভগবান শিবের উপাসনা এবং শিবলিঙ্গে জলাভিষেক করার পাশাপাশি ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ মন্ত্র জপ করা ফলদায়ক। মানসিক শান্তি ও আত্মবিশ্বাস বজায় রাখতে নিয়মিত হনুমান চালিসা পাঠের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, যেকোনো ধরনের নেতিবাচক চিন্তা দূরে রাখতে নিজেকে সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখা এবং তাড়াহুড়ো করে কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে ইতিবাচক মনোভাব ধরে রাখা জরুরি।
