মুখ্যমন্ত্রীর তকমা হারালেন মমতা, সাবেক প্রশাসক হিসেবে এখন কোন সুবিধা পাবেন তৃণমূল নেত্রী

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পালাবদলের পর পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির প্রেক্ষাপট আমূল বদলে গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাবলির জেরে গত ৭ মে রাজ্য বিধানসভা ভেঙে দেন রাজ্যপাল আর. এন. রবি। এর ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ সময়ের মুখ্যমন্ত্রীত্বের অবসান ঘটল। পদ হারানোর সাথে সাথেই তিনি রাজ্যের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, ক্যাবিনেট সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং পুলিশ ও আমলাতন্ত্রের ওপর কর্তৃত্ব হারিয়েছেন। একইসাথে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রাপ্য বেতন ও সরকারি ভাতাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
ক্ষমতাচ্যুতি ও সম্ভাব্য সুযোগ-সুবিধা
একজন মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করার পর নিয়ম অনুযায়ী সরকারি বাসভবন ত্যাগ করতে হয়। তবে প্রশাসনিক ক্ষমতা হারালেও ভারতের সংসদীয় ও প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী একজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বেশ কিছু আজীবন সুবিধা পাওয়ার অধিকারী। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো উচ্চস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। থ্রেট পারসেপশন বা ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এই নিরাপত্তা বলয় বজায় থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ব্যক্তিগত সচিব, পিওন ও অফিস সহকারীর মতো সহায়ক কর্মী এবং দাপ্তরিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তাও তিনি পেতে পারেন।
প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে পেনশন ও চিকিৎসা সেবা
সাতবারের সাংসদ হওয়ার সুবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাসে প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সংসদীয় পেনশন পাওয়ার যোগ্য। এর পাশাপাশি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি ও তাঁর পরিবার আজীবন নিখরচায় সরকারি চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। বিভিন্ন রাজ্যে সাবেক মুখ্যমন্ত্রীদের জন্য ট্রেনে প্রথম শ্রেণীতে যাতায়াত এবং বিনামূল্যে টেলিফোন বা ইন্টারনেট সংযোগের মতো বাড়তি সুযোগও দেওয়া হয়। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অতীতে বারবার দাবি করেছেন যে তিনি কোনো সরকারি বেতন বা পেনশন গ্রহণ করেন না, যা তাঁর ক্ষেত্রে এই আর্থিক সুবিধাগুলোর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন বজায় রেখেছে।
এক ঝলকে
- ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক রদবদলে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে অব্যাহতি নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- পদ হারানোর ফলে বেতন, সরকারি আবাসন এবং রাজ্যের প্রশাসনিক ও পুলিশি ব্যবস্থার ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকছে না।
- সাবেক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি আজীবন বিনামূল্যে সরকারি চিকিৎসা সেবা ও উচ্চমানের নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন।
- সাতবারের সাবেক সাংসদ হিসেবে তিনি মাসে প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়ার অধিকারী।
