মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি, পার্টিতে নতুন ভূমিকা কি মেনে নেবেন সিদ্দারামাইয়া – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই সে রাজ্যে কংগ্রেসের অন্দরে ক্ষমতার রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে টানাপোড়েন অব্যাহত ছিল। এবার সেই জল্পনা এবং চোরা কোন্দল এক নতুন মাত্রা নিল। উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার শিবিরের ক্রমাগত চাপ এবং রাজ্যে ‘নেতৃত্ব বদল’-এর গুঞ্জনের মাঝেই আচমকা দিল্লি উড়ে গেলেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। রাজধানীতে পৌঁছেই তিনি কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন। লোকসভা ভোটের পর বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সিদ্দারামাইয়ার এই তড়িঘড়ি দিল্লি সফর দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই ও ক্ষোভের কারণ
রাজনৈতিক মহলের খবর, কর্ণাটক কংগ্রেসের অন্দরে সিদ্দারামাইয়া এবং ডি কে শিবকুমারের অনুগামীদের মধ্যে ক্ষমতার অলিন্দে ঠান্ডা লড়াই নতুন কিছু নয়। আড়াই বছরের মেয়াদে মুখ্যমন্ত্রী বদলের একটি অলিখিত সূত্র নিয়ে শিবকুমার শিবির দীর্ঘদিন ধরেই সরব। এই আবহে হাইকম্যান্ডের এই তলব অত্যন্ত অর্থবহ বলে মনে করা হচ্ছে। বৈঠকে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কর্ণাটক সরকারের বর্তমান কাজকর্ম, আগামী দিনের রণকৌশল এবং দলের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। যদিও প্রকাশ্যে সিদ্দারামাইয়া অনুগামীরা একে ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ এবং রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজের তাগিদে সফর বলে দাবি করছেন, কিন্তু রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, দাক্ষিণাত্যের এই হেভিওয়েট রাজ্যে দলের রাশ শক্ত করতেই হাইকমান্ড এই হস্তক্ষেপ করেছে।
দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
দিল্লির এই হাইপ্রোফাইল বৈঠকের পর সিদ্দারামাইয়া কর্ণাটকে নিজের কুর্সি কতটা সুরক্ষিত রাখতে পারেন এবং ডি কে শিবকুমারের নেতৃত্ব দাবি করার বিষয়টিকে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব কীভাবে সামাল দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে কর্ণাটকের মতো বড় রাজ্যে কোনো রকম অভ্যন্তরীণ ফাটল চাইছে না সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটি বা এআইসিসি। সিদ্দারামাইয়া যদি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি নিয়ে পার্টিতে কোনো নতুন সাংগঠনিক ভূমিকা মেনে নেন, তবে তা কর্ণাটক তথা পুরো দক্ষিণ ভারতের কংগ্রেস রাজনীতিতে এক বড় ধরনের ক্ষমতার ভারসাম্য বদল আনতে পারে। অন্যদিকে শিবকুমার শিবিরের ক্ষমতা বৃদ্ধি রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম দিতে পারে।
