মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠকে শতাব্দী রায়, তৃণমূলের অন্দরে কি ভাঙনের সুর? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দিল্লিতে বীরভূমের তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়ের বাসভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই দলের অন্দরে ক্ষোভের যে বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল, এই বৈঠক তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলল। শতাব্দী রায় নিজেই জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার জন্য এই বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েই শুভেন্দু অধিকারী সেখানে পৌঁছান এবং পরবর্তী সময়ে অন্যান্য সাংসদরা সেখানে যোগ দেন। মূলত নিজ নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ ও যৌথ সহযোগিতার বিষয়েই আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সাংসদ।
দুর্নীতি ও একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ
বৈঠকের পাশাপাশি তৃণমূলের প্রাক্তন নেতৃত্বের প্রতিও নিজের ক্ষোভ গোপন রাখেননি শতাব্দী। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে দলের অন্দরে একনায়কতন্ত্র চলছিল। মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বহুবার সতর্কবার্তা পাঠানো সত্ত্বেও দুর্নীতি ও দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিয়ে তাঁরা কর্ণপাত করেননি। সাংসদের মতে, তৃণমূলের এই ভরাডুবির অন্যতম কারণ দুর্নীতি। দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও নেতৃত্বের নিষ্ক্রিয়তা তাঁকে এই কঠিন সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
এই বৈঠককে অনেকে ভয় বা চাপের কারণে করা পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, তা সরাসরি নাকচ করেছেন শতাব্দী। তিনি সাফ জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে কাটমানি বা দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই, তাই কোনো চাপের প্রশ্নই নেই। বরং মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে উন্নয়নের কাজে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এই রাজনৈতিক মেলবন্ধন আগামী দিনে তৃণমূলের সংসদীয় কাঠামোকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। শতাব্দী আপাতত লোকসভায় তাঁর পুরোনো দায়িত্ব তথা উপ-মুখ্য সচেতক হিসেবেই কাজ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন, তবে দলের অন্দরে ক্রমাগত বাড়তে থাকা এই বিদ্রোহ তৃণমূলের শক্তিক্ষয়কে ত্বরান্বিত করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
