মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরই তারাতলা কাণ্ডে গ্রেপ্তার ‘ক্যামাক স্ট্রিটের কালী’! – এবেলা

মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরই তারাতলা কাণ্ডে গ্রেপ্তার ‘ক্যামাক স্ট্রিটের কালী’! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন আপ্তসহায়ক ও ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে কালীকে গ্রেপ্তার করল বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ে ১১ জন শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সন্ধ্যায় এই পদক্ষেপ নেয় সিট। শুক্রবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে।

বিপর্যয়ের কারণ ও মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ

প্রাথমিক তথ্যে জানা গিয়েছে, বিপদ হতে পারে জেনেও শুধুমাত্র খরচ বাঁচাতে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল তারাতলার ওই গোডাউনে, যা এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। বিধানসভায় এই ঘটনার নথি তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বিল্ডিংয়ের নকশায় ফিরহাদ হাকিমের সই থাকলেও সমস্ত অনুমোদন হত কালীর অঙ্গুলিহেলনে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘ক্যামাক স্ট্রিট’-এর নির্দেশেই পুরসভায় নিয়োগ পেয়েছিলেন কালী এবং তাঁকে ধরলেই বেআইনি নির্মাণ চক্রের সমস্ত পর্দাফাঁস হবে।

প্রভাবশালী কালীর উত্থান ও সম্ভাব্য প্রভাব

ডব্লিউবিসিএস এবং রাজ্য পুলিশ সার্ভিস পরীক্ষায় শীর্ষস্থানে থাকা কালীচরণ একসময় পুরসভার অঘোষিত নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন। ২০১০ সাল থেকে পুরসভায় যুক্ত হওয়ার পর বিল্ডিংয়ের নকশা পাশ থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ তাঁর অনুমতি ছাড়া এগোত না। এই গ্রেপ্তারি তারাতলা বিপর্যয়ের তদন্তে একটি বড় পদক্ষেপ। এর ফলে কলকাতা পুরসভার অন্দরমহলে দীর্ঘদিন ধরে চলা বেআইনি নির্মাণ ও দুর্নীতির একটি বৃহত্তর চক্র প্রকাশ্যে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা আগামী দিনে প্রশাসনের অন্দরে এবং রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *