মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস কর্মীর বাড়িতে হামলার অভিযোগে উত্তেজনা, অধীরের মন্তব্যে শুরু তীব্র বিতর্ক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভোটের রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের বহরমপুর। শনিবার গভীর রাতে বহরমপুর শহরের চার নম্বর ওয়ার্ডে এক কংগ্রেস সমর্থকের বাড়িতে দুষ্কৃতী হামলার অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি আক্রান্ত পরিবারের। এই ঘটনায় মহিলাসহ চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে মহাদেব ঘোষ নামে এক ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আক্রমণের নেপথ্য কারণ ও পরিস্থিতি
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ভোটের দিন সংশ্লিষ্ট বুথে ধীরগতিতে ভোটদান প্রক্রিয়া চলার সময় অধীর চৌধুরী পার্শ্ববর্তী একটি মন্দিরে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। সেই সময় ওই পরিবারটি অধীর চৌধুরীকে পাখা চালিয়ে সাহায্য করেছিলেন এবং সৌজন্য বিনিময় করেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, এই ‘অপরাধেই’ রাতে তাঁদের ওপর চড়াও হয় একদল দুষ্কৃতী। ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান অধীর রঞ্জন চৌধুরী। এই ঘটনায় বহরমপুর শহর যুব তৃণমূল সভাপতি পাপাই ঘোষের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
অধীরের বিতর্কিত নিদান ও সম্ভাব্য প্রভাব
আক্রান্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে অধীর চৌধুরী দুষ্কৃতীদের মোকাবিলায় পাড়ার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তবে এরই মাঝে তিনি সাধারণ মানুষকে ‘বাড়িতে অস্ত্র রাখার’ যে নিদান দিয়েছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিরোধীরা একে প্ররোচনামূলক মন্তব্য হিসেবে দেখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন অভিজ্ঞ নেতার এমন মন্তব্য এলাকায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে এবং তৃণমূল-কংগ্রেস সংঘাতকে আরও উসকে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
এক ঝলকে
- বহরমপুরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কংগ্রেস সমর্থকের বাড়িতে গভীর রাতে হামলার অভিযোগ।
- ঘটনায় মহিলাসহ চারজন আহত, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
- আক্রান্তদের পাশে দাঁড়িয়ে অধীর চৌধুরীর ‘অস্ত্র রাখার’ মন্তব্যে বিতর্ক।
- তৃণমূল নেতা পাপাই ঘোষের নামে থানায় ও নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের।
