মুসলমান পাড়ায় ৯৭ শতাংশ ভোট বিজেপির, রাজারহাটের ফলাফল ঘিরে ‘সেটিং’-এর অভিযোগে তোলপাড় রাজনীতি – এবেলা

মুসলমান পাড়ায় ৯৭ শতাংশ ভোট বিজেপির, রাজারহাটের ফলাফল ঘিরে ‘সেটিং’-এর অভিযোগে তোলপাড় রাজনীতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজারহাট-নিউ টাউন বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফল ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট বুথের ভোটের পরিসংখ্যানকে ‘অস্বাভাবিক’ দাবি করে গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)। ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে স্থানীয়ভাবে ‘মুসলমান পাড়া’ নামে পরিচিত ১৬৪ নম্বর বুথ, যেখানে প্রায় ৯৭ শতাংশ ভোট পড়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) পক্ষে। এই বুথের অদ্ভুত নির্বাচনী সমীকরণ সামনে আসতেই ইভিএম এবং ভোট গণনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে শাসক দল।

পরাজয়ের নেপথ্যে শেষ দফার অঙ্ক

রাজারহাট-নিউ টাউন কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায় এবং বিজেপি প্রার্থী পীযূষ কানৌড়িয়ার মধ্যে শুরু থেকেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছিল। প্রথম ১৭ দফা গণনা শেষে তৃণমূল প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও, শেষ দফার গণনায় সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে যায়। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৩১৬ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন বিজেপি প্রার্থী। তৃণমূলের অভিযোগ, গত ৪ মে মূল গণনার সময় ১৬৪ নম্বর বুথের ভোট গণনা করা হয়নি। পরবর্তীতে ৫ মে আলাদা করে শেষ দফায় ওই বুথের ভোট গণনা করা হলে দেখা যায়, সেখানে পড়া মোট ৬৫৬টি ভোটের মধ্যে ৬৩৭টি ভোটই পেয়েছে বিজেপি। অন্য দিকে তৃণমূলের ঝুলিতে গেছে মাত্র ৫টি ভোট।

ভোটের অস্বাভাবিক পরিসংখ্যান ও প্রভাব

তৃণমূলের দাবি, এই বুথটিতে সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি এবং প্রাপ্ত ভোটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রায় ৫৫৮ জন মুসলিম ভোটার বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নজিরবিহীন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইভিএম কারচুপির সম্ভাবনার কথা প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণও। একই এলাকার পার্শ্ববর্তী ১৬৫ নম্বর বুথে যেখানে ৯১ শতাংশ মুসলিম ভোটার রয়েছেন, সেখানে বিজেপি পেয়েছে মাত্র ৩২টি ভোট। পাশাপাশি অন্য বুথটিতে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র কেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এবারের নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক সম্পূর্ণ একমুখী না হয়ে কংগ্রেস, বাম এবং আইএসএফ-এর মতো দলগুলোর মধ্যে বিভক্ত হয়ে যাওয়ার সুফল পেয়েছে বিজেপি। তবে একটি নির্দিষ্ট মুসলিম অধ্যুষিত বুথে ৯৭ শতাংশ ভোট পাওয়ার এই ঘটনাটি আগামী দিনে ইভিএম-এর বিশ্বাসযোগ্যতা এবং নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *