মুসলিম ভোটব্যাঙ্কে বেনজির সুনামি! ৯০ শতাংশের গণ্ডি পেরলো ভোটদান— পরিবর্তন না কি মমতায় ভরসা? – এবেলা
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/08/02/mamata-banerjee-2025-08-02-12-08-48.jpg?ssl=1)
এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে নজিরবিহীন ভোটদানের হার দেখা গিয়েছে। বিশেষত মুর্শিদাবাদ, মালদা এবং উত্তর দিনাজপুরের মতো মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলিতে ভোটদানের হার ৯০ শতাংশের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই অঞ্চলের ৫৪টি আসনের মধ্যে ৪৯টিতেই তৃণমূল কংগ্রেস জয়লাভ করলেও, এবারের এই বিপুল উৎসাহ নতুন কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষণ শুরু করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
রেকর্ড ভোটদানের পরিসংখ্যান
তথ্য অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে ভোটদানের হার গতবারের ৭৬.৪ শতাংশ থেকে লাফিয়ে বেড়ে ৯৬.৯ শতাংশে পৌঁছেছে। একই চিত্র দেখা গিয়েছে জঙ্গিপুর, সাগরদিঘি ও সামশেরগঞ্জেও, যেখানে ৯৫ শতাংশের বেশি মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। মালদার চাঁচল, রতুয়া এবং উত্তর দিনাজপুরের গোলপোখরেও ভোটদানের হার গতবারের তুলনায় প্রায় ১৪ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে বড় সংখ্যক নাম বাদ পড়ার বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর নজর কেড়েছে।
প্রভাব ও রাজনৈতিক সমীকরণ
এই বিপুল ভোটদানকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের প্রতি সংখ্যালঘু মানুষের আস্থা ও সংহতি এই রেকর্ডের মূল কারণ। অন্যদিকে, বিরোধী শিবির তথা বিজেপির মতে, এটি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং পরিবর্তনের স্পষ্ট লক্ষণ। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ভয় বা ‘এসআইআর’ (SIR) আতঙ্ক সাধারণ মানুষকে বুথমুখী করতে বড় ভূমিকা পালন করেছে। নিজেদের নাগরিকত্ব ও পরিচয় সুরক্ষিত রাখতেই সংখ্যালঘু ভোটাররা দলবদ্ধভাবে ভোট দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- মুর্শিদাবাদ ও মালদা-সহ মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলিতে ভোটদানের হার ৯০ শতাংশ ছাড়িয়েছে।
- রঘুনাথগঞ্জ ও জঙ্গিপুরের মতো কেন্দ্রে গতবারের তুলনায় ভোট বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।
- তালিকায় নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্ক ও রাজনৈতিক মেরুকরণকে এই রেকর্ড ভোটদানের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
- প্রথম দফার এই প্রবণতা আগামী দফার ভোটগুলোর রণকৌশলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
