মৃত্যুহার ৫০%! বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা WHO-এর, চিনে নিন ইবোলার এই বিপজ্জনক রূপকে – এবেলা

মৃত্যুহার ৫০%! বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা WHO-এর, চিনে নিন ইবোলার এই বিপজ্জনক রূপকে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কঙ্গো এবং উগান্ডায় ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে ‘পাবলিক হেলথ এমার্জেন্সি অব ইন্টারন্যাশনাল কনসার্ন’ বা বিশ্ব স্বাস্থ্যে জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মূলত ইবোলার একটি অত্যন্ত বিরল ও বিপজ্জনক রূপ ‘বুন্দিবুগ্য’ ভাইরাসের কারণেই আফ্রিকার দেশগুলোতে এই মহামারি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে বিশ্বজুড়ে বড় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

সংক্রমণের উৎস ও কারণ

ইবোলা মূলত একটি জুনোটিক ভাইরাস, যা বন্য প্রাণীর শরীর থেকে মানুষের দেহে প্রবেশ করে। সাধারণত বাদুড়, শিম্পাঞ্জি, গোরিলা বা বাঁদরের মতো প্রাণীর রক্ত কিংবা শরীরের অন্য কোনো তরলের সংস্পর্শে এলে মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। পরবর্তীতে আক্রান্ত ব্যক্তির লালা, রক্ত বা শারীরিক তরলের মাধ্যমে এটি দ্রুত মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাইরাসের ভয়ানক দিকটি হলো এর গড় মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ, যার ফলে এটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী হিসেবে পরিচিত।

লক্ষণ ও চিকিৎসার অভাব

শরীরে ইবোলা ভাইরাস প্রবেশের পর লক্ষণ প্রকাশ পেতে সাধারণত ২১ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, যাকে ভাইরাসের ইনকিউবিশন পিরিয়ড বলা হয়। প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে প্রচণ্ড জ্বর, ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা, মাথাব্যথা এবং গলাব্যথা দেখা দেয়। রোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বমি, ডায়ারিয়া, লিভার ও কিডনির সমস্যা এবং শরীরজুড়ে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রক্তপাত শুরু হতে পারে। দুঃখজনকভাবে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো সুনির্দিষ্ট কোনো কার্যকরী ওষুধ বা স্বীকৃত টিকা এখনও নেই। লক্ষণ দেখে দ্রুত রোগীকে আইসিইউ-তে (ICU) রেখে সহায়তামূলক চিকিৎসা দেওয়াই এখন পর্যন্ত সুস্থতার একমাত্র উপায়।

এক ঝলকে

  • কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলার প্রকোপ বাড়ায় বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে WHO।
  • ইবোলার বিরল রূপ ‘বুন্দিবুগ্য’ ভাইরাসের কারণে এই সংক্রমণ ছড়াচ্ছে এবং এর গড় মৃত্যুহার প্রায় ৫০%।
  • এটি একটি জুনোটিক ভাইরাস, যা বাদুড় বা বাঁদরজাতীয় প্রাণীর শরীর থেকে মানুষের রক্ত ও ফ্লুইডের মাধ্যমে ছড়ায়।
  • আক্রান্ত হলে জ্বর, বমির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রক্তপাত হতে পারে এবং এর কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ বা টিকা নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *