মৃত্যু কি শুধুই একটি মায়া! শরীর ত্যাগ ও আত্মার অবিনশ্বরতা নিয়ে প্রেমানন্দ মহারাজের অভয়বাণী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মৃত্যু নিয়ে মানুষের চিরন্তন ভয় ও উদ্বেগের অবসান ঘটাতে বৃন্দাবনের প্রখ্যাত সাধু প্রেমানন্দ মহারাজ এক গভীর আধ্যাত্মিক দর্শনের অবতারণা করেছেন। তাঁর মতে, মৃত্যু কোনো চূড়ান্ত সমাপ্তি নয়, বরং এটি একটি মহাজাগতিক মায়া মাত্র। মানুষ যখন নিজেকে নশ্বর শরীরের সাথে অভিন্ন মনে করে, তখনই মনে ভয়ের সঞ্চার হয়। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, আত্মা অবিনশ্বর এবং এর কোনো বিনাশ নেই।
দেহত্যাগ ও আত্মার রূপান্তর প্রেমানন্দ মহারাজ ব্যাখ্যা করেছেন যে, মানুষের শরীর পঞ্চভূত—অগ্নি, জল, বায়ু, পৃথিবী এবং আকাশ দ্বারা গঠিত। মৃত্যুর পর এই উপাদানগুলো প্রকৃতিতে মিশে গেলেও আত্মার অস্তিত্ব বিলীন হয় না। তিনি এই প্রক্রিয়াকে পুরনো পোশাক ত্যাগ করে নতুন পোশাক পরিধানের সাথে তুলনা করেছেন। তাঁর দর্শনে, দেহত্যাগ করা মানেই মৃত্যু নয়, বরং এটি একটি রূপান্তর যা এক জীবন থেকে অন্য জীবনে উত্তরণ ঘটায়।
ভয় জয়ের আধ্যাত্মিক পথ মহারাজের মতে, মৃত্যুভয় জয় করার মূল চাবিকাঠি হলো আধ্যাত্মিক চেতনা ও ঈশ্বর স্মরণ। যখন কোনো ব্যক্তি উপলব্ধি করেন যে তিনি দেহ নন বরং আত্মা, তখন বিনাশের আশঙ্কা অন্তর্হিত হয়। এই সত্যটি অনুধাবনের মাধ্যমে জীবন ও মৃত্যুর প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি আমূল বদলে যেতে পারে। বর্তমান মুহূর্তকে সৎ পথে এবং সেবামূলক কাজে ব্যয় করার মাধ্যমেই মানসিক শান্তি অর্জন সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
এক ঝলকে
- মৃত্যু কোনো শেষ নয় বরং শরীরের পঞ্চভূতে ফিরে যাওয়া এবং আত্মার নতুন যাত্রার সূচনা মাত্র।
- নিজেকে কেবল ‘দেহ’ মনে করার মানসিক বিভ্রম থেকেই মূলত মৃত্যুর ভয়ের উৎপত্তি হয়।
- পুরনো পোশাক পাল্টানোর মতো দেহত্যাগ একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা আত্মার অবিনশ্বরতাকে ক্ষুণ্ণ করে না।
- আধ্যাত্মিক সাধনা এবং ঈশ্বর ভক্তির মাধ্যমেই মৃত্যুকে জয় করে পরম শান্তি লাভ করা সম্ভব।
