মেয়ের বিয়েতে মানবিক আদালত, অবশেষে শর্তসাপেক্ষ জামিন পেলেন তৃণমূল কাউন্সিলর নাড়ুগোপাল!

মেয়ের বিয়েতে মানবিক আদালত, অবশেষে শর্তসাপেক্ষ জামিন পেলেন তৃণমূল কাউন্সিলর নাড়ুগোপাল!

মেয়ের বিয়ের কারণ দর্শিয়ে অবশেষে আইনি স্বস্তি পেলেন বর্ধমান পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলর নাড়ুগোপাল ভকত। পুলিশের কাজে বাধা দান এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে হুমকির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া এই নেতাকে শর্তসাপেক্ষ অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছে বর্ধমান আদালত। তবে এই মুক্তির পেছনে রয়েছে কড়া আইনি বিধি-নিষেধ, যার মধ্যে অন্যতম হলো প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার সংশ্লিষ্ট থানায় হাজিরা দেওয়া। গত ২৭ এপ্রিল গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তিনি জেল হেফাজতে ছিলেন।

বিতর্কিত মন্তব্য ও গ্রেফতারির নেপথ্য কাহিনী

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৪ মার্চ, যখন বর্ধমান-দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থীর প্রচারকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় এক বিজেপি নেতার বাড়িতে হামলার খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্ধমান থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অভিযোগ, সেই সময় কাউন্সিলর নাড়ুগোপাল ভকত দাবি করেন যে, তাঁর এলাকায় পুলিশি তৎপরতা চালাতে গেলে আগে তাঁর অনুমতি নিতে হবে। এই হুঁশিয়ারির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সক্রিয় হয় নির্বাচন কমিশন। এরপরই খুনের চেষ্টা ও অস্ত্র আইনসহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে নির্বাচনের ঠিক আগে তাঁকে শ্রীঘরে পাঠায় পুলিশ।

আইনি লড়াই ও জামিনের প্রভাব

৩০ এপ্রিল প্রথম দফায় জামিনের আবেদন নাকচ হয়ে গেলেও, শনিবার মেয়ের বিয়ের মানবিক কারণটি আদালতে জোরালোভাবে উপস্থাপন করেন তাঁর আইনজীবীরা। আদালত বিষয়টি বিবেচনা করে জামিন মঞ্জুর করলেও তদন্তের স্বার্থে একাধিক কঠোর শর্তারোপ করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফল ঘোষণার ঠিক আগে এই প্রভাবশালী নেতার মুক্তি সংশ্লিষ্ট এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ কিছুটা বাড়াতে পারে। তবে আদালতের দেওয়া কড়া শর্তসমূহ তাঁর অবাধ গতিবিধি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড়সড় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *