মেসি কাণ্ডে টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস ক্রীড়ামন্ত্রীর, কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতায় লিওনেল মেসির সফরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক ডার্বির দিনেও পিছু ছাড়ল না। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে চরম বিশৃঙ্খলার কারণে প্রচুর টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও আর্জেন্টাইন তারকাকে দেখতে পাননি হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী। ক্ষুব্ধ দর্শকদের একাংশ স্টেডিয়ামের চেয়ার ভাঙচুর করেন এবং ফুলের টব তুলে নিয়ে যান। এই পরিস্থিতিতে দর্শকদের টিকিটের টাকা দ্রুত ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে বড় আশ্বাস দিলেন রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। টাকা ফেরত না দিলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া ও মন্ত্রীর বার্তা
টাকা দিয়েও মেসিকে দেখতে না পাওয়ায় সরকারের পক্ষ থেকে আগেই অর্থ ফেরতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেই প্রক্রিয়া এখনো থমকে রয়েছে। ডার্বি ম্যাচ দেখে বেরিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক জানান, মেসি কাণ্ডটি একটি দুঃখজনক অধ্যায়। যে এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট বিক্রি হয়েছিল, তাদের দ্রুত সাধারণ দর্শকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, যদি দর্শকদের টাকা ফেরত দেওয়া না হয়, তবে সরকার কঠোর আইনি পদক্ষেপ করবে। প্রয়োজনে তিনি এই অনুষ্ঠানের প্রধান উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তের সঙ্গেও কথা বলতে রাজি আছেন।
বিবাদের নেপথ্যে রাজনীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ
অনুষ্ঠানের প্রধান উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তের অভিযোগ, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের ‘বাড়াবাড়ি’র কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। নিরাপত্তার অভাবে মেসিকে তড়িঘড়ি যুবভারতীর বাইরে নিয়ে যেতে হয়েছিল, যার ফলে দর্শকরা ক্ষুব্ধ হন। শতদ্রু দত্ত তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন এবং সেই মামলায় জিতলে সেই টাকা দিয়ে দর্শকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, হঠাৎ কোনো অভিজ্ঞতাহীন ‘ভুঁইফোড়’ সংস্থাকে ইভেন্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কিনা, তা নিয়ে বড়সড় দুর্নীতির ইঙ্গিত মিলছে।
ময়দান রাজনীতি ও পরিবারবাদ মুক্ত করার ডাক
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক কলকাতা ময়দানকে সম্পূর্ণ রাজনীতি ও স্বজনপোষণ মুক্ত করার বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, রাজ্যের প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর এবার খেলার ময়দান, বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থা ও ফেডারেশনগুলোকে রাজনীতি এবং পরিবারবাদ থেকে মুক্ত করাই হবে তাঁদের মূল লক্ষ্য। মেসি কাণ্ডের সম্পূর্ণ ফাইল ইতিমধ্যেই তলব করেছেন ক্রীড়ামন্ত্রী এবং গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন।
