মে মাসের শুরুতেই কালবৈশাখীর দাপট, শুক্রবারও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির কমলা সতর্কতা!

মে মাসের শুরু থেকেই আবহাওয়ার ভোলবদল দেখছে রাজ্যবাসী। বৃহস্পতিবার বিকেলের পর থেকে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে দফায় দফায় বৃষ্টির জেরে এক ধাক্কায় পারদ নেমেছে স্বাভাবিকের নিচে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবারও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ কালবৈশাখী ঝড়ের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত উত্তর-পূর্ব উত্তরপ্রদেশের ওপর একটি ঘূর্ণাবর্ত এবং বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পের জোড়া প্রভাবেই তৈরি হয়েছে এই অনুকূল পরিস্থিতি।
জেলায় জেলায় ঝড়ের দাপট ও সতর্কতা
শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এই জেলাগুলিতে ‘কমলা সতর্কতা’ জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। অন্যদিকে, ১০ মে পর্যন্ত ঝড়ের দাপট বজায় থাকলেও পরবর্তী দুই দিন বৃষ্টির পরিমাণ ও বাতাসের গতিবেগ কমতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া ও নিরাপত্তার নির্দেশিকা
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও বৃষ্টির তেজ বাড়বে। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির (৭-১১ সেমি) সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া মালদহ ও দুই দিনাজপুরে ঝোড়ো হাওয়ার দাপট থাকবে। বজ্রপাত ও ঝড়ের সময় সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সাধারণ মানুষকে ফাঁকা মাঠ বা গাছের নিচে না থেকে পাকা বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মূলত বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতার কারণে এই অকাল বর্ষণ ও ঝোড়ো হাওয়া কয়েক দিন জারি থাকবে, যা সাময়িকভাবে গরম থেকে স্বস্তি দিলেও স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত করতে পারে।
