মোদীর আমেরিকা চুক্তিতে কি বড় বিপদে পড়ছে ভারত?

ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক চুক্তি: দেশের স্বার্থ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করলেন রাহুল গান্ধী
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আমেরিকার সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এই চুক্তিকে দেশের সাধারণ মানুষের জন্য একটি ‘বড় প্রতারণা’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, এই সমঝোতা দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও সাধারণ মানুষের ঝুঁকি
রাহুল গান্ধীর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই চুক্তির ফলে রাজনৈতিকভাবে বিজেপি হয়তো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, কিন্তু এর আসল মূল্য দিতে হবে দেশের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে। তিনি মনে করেন, অভ্যন্তরীণ বাজারকে বিদেশের জন্য অতিরিক্ত উন্মুক্ত করে দেওয়ার ফলে দেশের সম্পদ ও বাজার পরোক্ষভাবে বিদেশি শক্তির নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। এই পদক্ষেপের ফলে পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যের সাধারণ মানুষ এবং ছোট ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।
কৃষিখাতে looming সংকট: স্থানীয় কৃষকদের ভবিষ্যৎ কী?
এই চুক্তির সবচেয়ে বিতর্কিত দিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ভারতীয় কৃষিক্ষেত্রকে মার্কিন কৃষকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া। রাহুল গান্ধীর মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন কৃষকরা খুব সহজেই ভারতীয় বাজারে প্রবেশ করবে, যা দেশীয় কৃষকদের জন্য এক আসাম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে নিম্নলিখিত পণ্যগুলোর বাজার দখলের আশঙ্কা রয়েছে:
- বিভিন্ন ধরণের ডাল ও সয়াবিন।
- কার্পাস বা তুলা।
- চিনাবাদাম এবং বিভিন্ন ধরনের ফলমূল।
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অস্তিত্ব সংকটে
দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা কবচ এই চুক্তির ফলে দুর্বল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, বড় বিদেশি কো ম্পা নি এবং মার্কিন কৃষিপণ্যের অবাধ প্রবেশাধিকার স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অস্তিত্ব সংকটে ফেলে দেবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে তিনি কার্যত ‘দেশ বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এক ঝলকে
- মোদী সরকারের আমেরিকা সফর ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তিকে ‘ভয়ঙ্কর ধোঁকা’ বলে দাবি করেছেন রাহুল গান্ধী।
- চুক্তির নেতিবাচক প্রভাব বিজেপি নয়, বরং সাধারণ শ্রমিক ও ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর পড়বে বলে আশঙ্কা।
- ভারতীয় কৃষিক্ষেত্রকে মার্কিন কৃষকদের ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার অভিযোগ।
- ডাল, সয়াবিন, তুলা ও ফলমূলের বাজারে স্থানীয় কৃষকরা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন।
- পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যের সাধারণ মানুষের আর্থিক নিরাপত্তার ওপর আঘাত আসার সম্ভাবনা।
