মোদীর মাস্টারস্ট্রোক! ভারতের তেল ভাণ্ডারে ৩ কোটি ব্যারেল ক্রুড অয়েল রাখছে UAE, ঘুম উড়ল চীন-পাকিস্তানের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনার মাঝেই জ্বালানি নিরাপত্তায় এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আবুধাবি সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে ভারতের একটি যুগান্তকারী কৌশলগত জ্বালানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ইউএই এখন ভারতের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ বা কৌশলগত তেল ভাণ্ডারে ৩ কোটি (৩০ মিলিয়ন) ব্যারেল পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল মজুত করবে। আন্তর্জাতিক বাজারে যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি বা যুদ্ধকালীন সংকটে ভারতের জন্য এটি একটি শক্তিশালী “নিরাপত্তা কবচ” হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
৩ কোটি ব্যারেল তেলের গেমচেঞ্জার ও ভারতের জ্বালানি পরিকল্পনা
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারত তার চাহিদার সিংহভাগই বিদেশ থেকে মেটায়। ফলে যেকোনো বৈশ্বিক যুদ্ধ, সামুদ্রিক উত্তেজনা বা সরবরাহ বিঘ্নিত হলে সরাসরি দেশের বাজারে এর প্রভাব পড়ে। এই ঝুঁকি এড়াতেই ভারত মাটির নিচে বিশাল ‘কৌশলগত তেল ভাণ্ডার’ তৈরি করেছে। এখন ইউএইর সরকারি তেল কো ম্পা নি ‘অ্যাডনক’ (ADNOC) এবং ‘ইন্ডিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভস লিমিটেড’-এর নতুন চুক্তির ফলে ভারতের এই মজুত এক ধাক্কায় অনেকখানি বেড়ে যাচ্ছে। ‘স্ট্রেইট অব হরমুজ’-এর মতো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য রুটে যেকোনো অস্থিরতা মোকাবিলা করে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজার সচল রাখতে এই বিশাল মজুত অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
শুধু তেল নয়, নজর গ্যাস ও এলপিজিতেও
এই মেগা চুক্তির পরিধি শুধু অপরিশোধিত তেলেই সীমাবদ্ধ নয়। ভারত ও ইউএই যৌথভাবে ভারতে একটি ‘কৌশলগত গ্যাস রিজার্ভ’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পাশাপাশি ‘ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন’ এবং ‘অ্যাডনক’-এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি এলপিজি সরবরাহের চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে দূরপাল্লায় দেশের অভ্যন্তরে রান্নার গ্যাসের বাজারে এক ধরনের বড় স্থায়িত্ব আসবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা থেকে সাধারণ মানুষকে আংশিক সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।
আর্থিক বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে বড় প্রভাব
জ্বালানি খাতের পাশাপাশি এই সফরে ইউএই ভারতে ব্যাংকিং, অবকাঠামো এবং আর্থিক খাতে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিরক্ষা, জাহাজ নির্মাণ এবং উন্নত কম্পিউটিং প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত ও ইউএইর এই ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে। একদিকে ইউএইর মতো প্রভাবশালী মুসলিম রাষ্ট্রের ভারতের এত কাছাকাছি চলে আসা, অন্যদিকে ভারতের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা কয়েক গুণ মজবুত হওয়া—স্বভাবতই প্রতিবেশী পাকিস্তান ও চীনের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
