মোদীর ১০ টাকার ঝালমুড়িই কাল হলো, আতঙ্কে দিন কাটছে ঝাড়গ্রামের বিক্রমের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
গত এপ্রিল মাসে লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে ঝাড়গ্রামে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ঝাড়গ্রাম শহরের রাজ কলেজ মোড়ের কাছে ‘চবনলাল স্পেশ্যাল ঝালমুড়ি’ নামক একটি দোকান থেকে আচমকাই ১০ টাকার ঝালমুড়ি কিনে খান তিনি। এই একটি সাধারণ ঘটনা রাতারাতি ভাগ্য বদলে দিয়েছিল বিহারের গয়া থেকে আসা ছাপোষা যুবক বিক্রমকুমার সাউয়ের। কিন্তু সেই পরিচিতিই এখন তাঁর ও তাঁর পরিবারের জীবনে চরম অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে। ক্রমাগত হুমকি আর রাজনৈতিক ট্যাগিংয়ের জেরে বিক্রমের এখন আক্ষেপ, প্রধানমন্ত্রী তাঁর দোকানে না এলেই হয়তো ভাল হতো।
সীমান্ত পারের হুমকি ও পুলিশি নজরদারি
প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়ার ঘটনার পর থেকেই বিক্রমের জীবন আমূল বদলে গেছে। বর্তমানে তাঁর দোকানে সার্বক্ষণিক পুলিশি পাহারা বসানো হয়েছে এবং নিরাপত্তার খাতিরে সিসিটিভি ক্যামেরাও লাগিয়েছে প্রশাসন। বিক্রমের অভিযোগ, মোদী তাঁর দোকান থেকে ঘুরে যাওয়ার পর থেকেই পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে টেক্সট মেসেজ ও হোয়াটস্অ্যাপের মাধ্যমে ধারাবাহিক ভাবে হুমকি পাচ্ছেন তিনি। ঝাড়গ্রাম থানায় এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর থেকেই তাঁর সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকানে পুলিশ মোতায়েন থাকে। এই কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপ ও অচেনা মানুষের আনাগোনা তাঁর প্রতিদিনের স্বাভাবিক ব্যবসাকে ব্যাহত করছে।
রাজনৈতিক ট্যাগিং ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
বিহারের গয়া থেকে এসে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ঝাড়গ্রামে বসবাস করছে বিক্রমের পরিবার। পাঁচ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে কলেজ মোড়ের এই দোকানটি কিনেছিলেন তিনি। পরিবারে বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী এবং পাঁচ বছরের সন্তান রয়েছে। বিক্রম জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই আকস্মিক সফরের পর স্থানীয় স্তরে তাঁকে ‘বিজেপির লোক’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়। তীব্র আতঙ্কের কারণে এক সময় তিনি সপরিবারে বিহারে ফিরে যাওয়ার কথাও ভাবছিলেন। মোদীর দেওয়া সেই ১০ টাকার নোটটি সযত্নে আলমারিতে তুলে রাখলেও, তার বদলে আসা এই তীব্র আতঙ্ক ও রাজনৈতিক চাপ এখন ঝাড়গ্রামের এই ঝালমুড়ি বিক্রেতার রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।
