মোদী বনাম মমতা: মহাযুদ্ধের ভোটগ্রহণ শেষ, কার দখলে যাবে নবান্ন? ৪ মে-র অপেক্ষায় বাংলা!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ইতিহাসে দীর্ঘতম এবং সম্ভবত সবচেয়ে তীব্র রাজনৈতিক লড়াইয়ের অবসান ঘটল। দুই দফায় সম্পন্ন হওয়া এই নির্বাচনে গড় ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৯২.৪৭ শতাংশ, যা স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এক অনন্য রেকর্ড। ২০১১ সালে বাম শাসনের অবসানের সময়কার ৮৪ শতাংশ ভোটদানের রেকর্ডকেও ছাপিয়ে গিয়েছে এই সংখ্যা। এখন প্রশ্ন একটাই—নবান্নের ক্ষমতা কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই থাকছে, নাকি বিজেপি প্রথমবারের মতো বাংলার মসনদ দখল করতে যাচ্ছে?
অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই ও বিরোধী মুখ
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াই নয়, বরং তাঁর দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক আধিপত্য প্রমাণের অগ্নিপরীক্ষা। নিয়োগ দুর্নীতি এবং একাধিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে বিদ্ধ তৃণমূল কংগ্রেস এবার ব্যাপক প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়ার মুখোমুখি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রতিকূলতা পেরিয়ে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় ফিরতে পারেন, তবে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপি বিরোধী জোটের প্রধান মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবেন।
বিজেপির আদর্শিক লক্ষ্য ও ভোটার তালিকায় বিতর্ক
অন্যদিকে, বিজেপির কাছে পশ্চিমবঙ্গ জয় তাদের আদর্শিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত লক্ষ্য। ২০১১ সালে মাত্র ৪ শতাংশ ভোট পাওয়া দলটি এখন তৃণমূলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে এবারের নির্বাচনে ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়া নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল একে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষকে লক্ষ্য করে ভোটাধিকার হরণের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে, যদিও বিজেপি একে ‘ভুয়া নাম’ বাতিলের স্বচ্ছ প্রক্রিয়া হিসেবে দাবি করেছে। ৪ মে ফলাফল ঘোষণার পরেই স্পষ্ট হবে এই ভোটার তালিকার প্রভাব কার পক্ষে যায়।
এক ঝলকে
- দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গে রেকর্ড ৯২.৪৭ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা অতীতের সব নজির ভেঙে দিয়েছে।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় ফেরার মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে প্রধান বিরোধী মুখ হওয়ার চ্যালেঞ্জ।
- বিজেপির জন্য বাংলার ক্ষমতা দখল একটি আসাম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও আদর্শিক মিশন সফল করার লড়াই।
- ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ পড়া এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বিতর্কিত এবং প্রভাব বিস্তারকারী ইস্যু।
