মোবাইল নয়, শিশুর ঘুমের আসল শত্রু সন্ধ্যার এই অভ্যাসে—জানুন চিকিৎসকের পরামর্শ – এবেলা

মোবাইল নয়, শিশুর ঘুমের আসল শত্রু সন্ধ্যার এই অভ্যাসে—জানুন চিকিৎসকের পরামর্শ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আজকাল প্রায় প্রতিটি ঘরেই এক পরিচিত দৃশ্য—বাচ্চারা রাতে সহজে ঘুমোতে চায় না, বারবার ঘুম ভেঙে যায় এবং সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় উঠতে প্রচণ্ড বায়না করে। সন্তানের এই অনিয়মিত ঘুমের প্রভাবে মা-বাবারও রাতের ঘুম হারাম হওয়ার উপক্রম হয়। অধিকাংশ অভিভাবক এর জন্য মোবাইল বা শিশুর একগুঁয়েমিকে দোষ দেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্ধ্যার কয়েকটি ভুল অভ্যাসের কারণেই মূলত শিশুদের ঘুমের গুণমান নষ্ট হয়।

গুরগাঁওয়ের পারস হেলথের শিশু বিশেষজ্ঞ ডক্টর মণীশ মন্নন জানান, শিশুদের ঘুমের অভ্যাসে অভিভাবকদের এখনই নজর দেওয়া উচিত। ‘আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ স্লিপ মেডিসিন’ (AASM)-এর তথ্য অনুযায়ী, ৬ থেকে ১২ বছর বয়সি শিশুদের সুস্থ বিকাশের জন্য দৈনিক ৯ থেকে ১২ ঘণ্টা এবং ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীদের ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুম জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম শিশুর মস্তিষ্কের কাজ ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। তাই ভোরে তুলে পড়ালেই ভালো ফল মিলবে—এই ধারণা ভুল। কলেজে ভর্তির বয়স পর্যন্ত অন্তত ৮ থেকে ৯ ঘণ্টার কম ঘুম হলে শিশুর সঠিক মানসিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে।

শিশুর গভীর ঘুমের জন্য সন্ধ্যার যে ৫টি অভ্যাস বদলাবেন:

  • স্ক্রিন টাইম বন্ধ রাখুন: ঘুমানোর অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে মোবাইল, টিভি বা ট্যাবলেটের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করুন এবং ডিভাইসগুলি শোয়ার ঘরের বাইরে রাখুন।
  • ছুটির দিনেও একই রুটিন রাখুন: ছুটির দিনে দেড়িতে ঘুমানো বা দেরিতে ওঠার ফলে শিশুর ‘বডি ক্লক’ বা ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হয়। তাই প্রতিদিন একই সময়ে শোওয়া ও ওঠার অভ্যাস বজায় রাখুন।
  • বিছানা শুধু ঘুমের জন্য নির্দিষ্ট করুন: বিছানায় বসে পড়াশোনা বা গেম খেলার অভ্যাস বন্ধ করুন। পড়ার জন্য টেবিল-চেয়ার ব্যবহার নিশ্চিত করুন এবং শোয়ার ঘর শান্ত ও কম আলোযুক্ত রাখুন।
  • অতিরিক্ত ব্যস্ত রাখবেন না: সারাদিন কাজের চাপে শিশু অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়লে রাতে তার ওপর মানসিক চাপ তৈরি হয়। ফলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। রাতে ঘুমানোর আগে হালকা বই পড়া বা গল্প করার শান্ত পরিবেশ তৈরি করুন।
  • খাবার ও ক্যাফিনে লাগাম টানুন: কোল্ড ড্রিঙ্কস বা ক্যাফিনযুক্ত পানীয় থেকে সন্তানদের দূরে রাখুন। রাতের খাবার ঘুমানোর অন্তত ৩ ঘণ্টা আগে শেষ করার চেষ্টা করুন, যাতে হজমের সমস্যা ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটায়।

কখন ডাক্তার দেখাবেন? শিশু যদি ঘুমের মধ্যে নিয়মিত জোরে নাক ডাকে, শ্বাসকষ্টের সমস্যা হয় বা খুব অস্থিরভাবে ঘুমায়, তবে তা অবহেলা করবেন না। পাশাপাশি সকালে উঠে মাথা ব্যথা করা বা সারাদিন অতিরিক্ত ক্লান্ত ও ঘুমঘুম ভাব দেখা দিলে দ্রুত শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

Admin
  • Admin

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *