যিশুর সমাধির চাদরে ভারতীয় ডিএনএ, রহস্য উন্মোচনে চাঞ্চল্যকর তথ্য

যিশু খ্রিস্টের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক ‘তুরিনের চাদর’ নিয়ে কয়েক দশকের রহস্য এক নতুন মোড় নিল। সাম্প্রতিক এক জিনোমিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, এই পবিত্র কাপড়ে ভারতীয় উপমহাদেশের ডিএনএ-র সুস্পষ্ট উপস্থিতি রয়েছে। ইতালীয় গবেষক জিয়ান্নি বারকাসিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, চাদর থেকে সংগৃহীত ডিএনএ-র প্রায় ৩৮.৭ শতাংশই ভারতীয় বংশোদ্ভূত। এই আবিষ্কার প্রাচীন বিশ্বের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্কের এক অজানিত অধ্যায় সামনে নিয়ে এসেছে।
গবেষকদের মতে, সিন্ধু উপত্যকা বা সংলগ্ন অঞ্চল থেকে উৎপাদিত লিনেন বা সুতো আমদানির মাধ্যমেই এই ভারতীয় সংযোগ তৈরি হওয়া সম্ভব। প্রাচীন ইহুদি ধর্মগ্রন্থে এই ধরনের কাপড়কে ‘হিন্দোইন’ বলে উল্লেখ করা হতো, যা সরাসরি হিন্দুস্থান বা ভারত থেকে আগত বস্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করে। ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে, হরপ্পা ও মহেঞ্জোদাড়ো সভ্যতার আমল থেকেই ভারত উন্নত মানের বস্ত্র ও হস্তশিল্পের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ছিল এবং মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে ভারতের সক্রিয় বাণিজ্যিক যোগাযোগ বজায় ছিল।
৪.৪ মিটার লম্বা ও ১.১ মিটার চওড়া এই লিনেন কাপড়ে এক নগ্ন পুরুষের আবছা অবয়ব দৃশ্যমান, যার শরীরে ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, ৩৩ খ্রিস্টাব্দে যিশুর দেহ এই চাদরেই ঢাকা হয়েছিল। তবে গবেষণায় ভারতীয় ডিএনএ ছাড়াও নিকট প্রাচ্যের মানুষের ৫৫.৬ শতাংশ এবং ইউরোপীয় বংশোদ্ভূতদের সামান্য ডিএনএ পাওয়া গেছে। এছাড়া আমেরিকা থেকে আসা আলু ও ভুট্টার মতো উদ্ভিদের ডিএনএ-র সন্ধান মেলায় বোঝা যায়, গত দুই হাজার বছরে এই চাদরটি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সংস্পর্শে এসেছে।
বর্তমানে ইতালির তুরিন শহরের ‘চ্যাপেল অফ দ্য হোলি শ্রাউড’-এ সংরক্ষিত এই চাদরটি নিয়ে বিতর্ক ও ভক্তি সমান্তরালভাবে বহমান। যদিও বিজ্ঞান এখনো এটি যিশু খ্রিস্টেরই সমাধি বস্ত্র কি না তা নিয়ে চূড়ান্ত রায় দেয়নি, তবে ভারতীয় ডিএনএ-র এই বিশাল উপস্থিতি প্রমাণ করে যে প্রাচীন ভারতের কারিগরি দক্ষতা ও পণ্য বাইবেলের ইতিহাসের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ছিল। বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের এই নতুন গবেষণা এখন ইতিহাস ও ধর্মের মেলবন্ধনে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
