যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অগ্নিমূল্য বাজার! আজ সোনা থেকে রান্নার গ্যাস— একনজরে দেখে নিন লেটেস্ট রেট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে অস্থিরতা এবং ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে টালমাটাল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ায় ভারতের ওপর চাপ বাড়ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ এড়ানো এবং সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এর মাঝেই ১২ মে, ২০২৬ তারিখে দেশের বাজারে জ্বালানি তেল থেকে শুরু করে রান্নার গ্যাস ও মূল্যবান ধাতুর আকাশছোঁয়া দাম নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
রেকর্ড উচ্চতায় জ্বালানি ও রান্নার গ্যাস
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দামের কারণে সরকারি তেল বিপণন সংস্থাগুলো (OMCs) বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা লোকসান গুনছে বলে সরকার স্বীকার করেছে। এই চাপের প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। আজ রাজধানী দিল্লিতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম যথাক্রমে ৯৪.৭৭ এবং ৮৭.৬৭ টাকা হলেও কলকাতায় পেট্রোল বিকোচ্ছে ১০৫.৪৫ টাকায় এবং ডিজেল ৯২.০২ টাকায়। দক্ষিণ ভারতের শহর হায়দ্রাবাদে পেট্রোল ছাড়িয়েছে ১০৭ টাকার গণ্ডি। জ্বালানির পাশাপাশি মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে রান্নার গ্যাসের দামও। কলকাতায় ১৪.২ কেজির ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৯৩৯ টাকা এবং বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ৩,২০২ টাকায় পৌঁছেছে।
অগ্নিমূল্য সোনা ও রুপার বাজার
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই মূল্যবান ধাতুর দাম সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর সতর্কবার্তার মধ্যেই দেশের প্রধান শহরগুলোতে ২৪ ক্যারেট সোনার ১০ গ্রামের দাম ১.৫২ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। দিল্লিতে আজ ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৫২,২৮০ টাকা এবং কলকাতায় তা ১,৫২,১৩০ টাকা। সমান্তরালভাবে রুপার দামও আকাশচুম্বী, প্রতি কেজিতে যা ২,৭৫,০০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ায় এই মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, যা সরাসরি খুচরা বাজারে প্রভাব ফেলছে। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টা চললেও, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পণ্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি কমার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
