যুদ্ধকালীন সংকট মোকাবিলায় পুতিনের বড় পদক্ষেপ! টন টন সোনা বিক্রি করছে রাশিয়া – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইউক্রেন যুদ্ধের পঞ্চম বছরে এসে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। ভ্লাদিমির পুতিন সরকার ক্রমবর্ধমান যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে এবং আকাশছোঁয়া বাজেট ঘাটতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা বিক্রি শুরু করেছে। ২০২৬ সালের শুরুর দিকেই প্রায় ২২ টন সোনা বিক্রির তথ্য সামনে আসায় বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার বর্তমান বাজেট ঘাটতি যখন ৬১.২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, তখন এই মহামূল্যবান ধাতুর ভাণ্ডারে হাত দেওয়াকে মস্কোর চরম অর্থনৈতিক চাপের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি ও রেকর্ড লাভ
মূলত প্রতিরক্ষা খাতের লাগামহীন ব্যয় এবং রুবলের মান ধরে রাখার তাগিদে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রেমলিন। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায় থাকায় রাশিয়া এই পরিস্থিতিকে কৌশলে ব্যবহার করছে। প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫,৫০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগে মাত্র কয়েক মাসে প্রায় ১.৬৮ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে পুতিন সরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত রাশিয়ার বর্তমান সোনার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২,৩০৪.৭৬ টনে। অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে মস্কো এক্সচেঞ্জে সোনার লেনদেন গত বছরের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে ৩৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ ও চীন সংযোগ
আর্থিক অনিশ্চয়তা থেকে বাঁচতে রাশিয়ার সাধারণ মানুষও এখন সঞ্চয়ের মাধ্যম হিসেবে সোনাকে বেছে নিচ্ছেন। গত বছর রুশ নাগরিকরা ব্যক্তিগতভাবে রেকর্ড পরিমাণ সোনা ক্রয় করেছেন যা অভ্যন্তরীণ বাজারে এর চাহিদা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি বন্ধুরাষ্ট্র চীনের সঙ্গেও রাশিয়ার সোনা বাণিজ্যের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। ২০২৫ সালের প্রথমার্ধেই বেইজিংয়ে রাশিয়ার মূল্যবান ধাতু রপ্তানি দ্বিগুণ হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে সোনা মজুত শক্তিশালী করার পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি মস্কোকে এই সম্পদ হাতছাড়া করতে বাধ্য করছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির মানচিত্রে এক নতুন সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এক ঝলকে
- ২০২৬ সালের শুরুতে বাজেট ঘাটতি ও যুদ্ধের খরচ মেটাতে প্রায় ২২ টন সোনা বিক্রি করেছে রাশিয়া।
- আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম রেকর্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় এই বিক্রয় থেকে প্রায় ১.৬৮ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে পুতিন সরকার।
- অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে সাধারণ রুশ নাগরিকদের মধ্যেও সোনা ক্রয়ের প্রবণতা কয়েক গুণ বেড়েছে।
- চীনের সঙ্গে রাশিয়ার মূল্যবান ধাতু রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিচ্ছে।
