যুদ্ধের আগুনেও সুরক্ষিত ভারতের তেল আমদানি, হরমুজ প্রণালীতে নয়া কূটনৈতিক সাফল্য নয়াদিল্লির! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান যুদ্ধের জেরে কার্যত অবরুদ্ধ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী। এই ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট তৈরি হলেও, হরমুজের অশান্ত পরিবেশের মধ্যেই অবাধে যাতায়াত করছে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ। নয়াদিল্লির এই কৌশলগত ও কূটনৈতিক সাফল্য আন্তর্জাতিক মহলে সাড়া ফেলে দিয়েছে।
জ্বালানি সুরক্ষায় হরমুজের গুরুত্ব
ভারতের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি সুরক্ষার জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত তার অভ্যন্তরীণ চাহিদার ৮৫ শতাংশেরও বেশি অপরিশোধিত তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে, যার প্রায় অর্ধেক অংশই আসে এই পথ দিয়ে। ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং কুয়েতের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ২৭ লক্ষ ব্যারেল তেল এই প্রণালী মারফত ভারতে পৌঁছায়। এর পাশাপাশি দেশের তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (সিএনজি) মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ এই নির্দিষ্ট রুট ব্যবহার করে আমদানি করা হয়। ফলে এই জলপথ অবরুদ্ধ হলে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির হাহাকার তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
নয়াদিল্লির গোপন কূটনীতি ও প্রভাব
এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে ভারতীয় জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে পর্দার আড়ালে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে মোদি সরকার। জাহাজ ও বন্দর মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সূত্রে জানা গেছে, তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে বিদেশমন্ত্রক। ইরানের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় সাধন করেই এই বিশেষ অগ্রাধিকার আদায় করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি এলপিজি ট্যাঙ্কার, পাঁচটি অপরিশোধিত তেলের ট্যাঙ্কারসহ মোট ১৩টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ অবস্থান করলেও সেগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তির কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় পরিস্থিতি যেকোনো সময় আরও জটিল হতে পারে। তবে ভারতীয় কূটনৈতিক মহলের দাবি, যুদ্ধের অভিমুখ যেদিকেই যাক না কেন, কার্যকর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জেরে হরমুজ প্রণালীতে ভারতের তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচলে বড় কোনো বাধা আসবে না। এই সফল কূটনীতির ফলে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল ও সুরক্ষিত রয়েছে।
