“যুবসমাজের স্বপ্ন চুরিই সবচেয়ে বড় অপরাধ!” প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর তোপ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দেশজুড়ে একের পর এক পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি বলপ্রয়োগের অভিযোগে লোকসভায় কেন্দ্র সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। মঙ্গলবার ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল’ নিয়ে আলোচনা চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করে তিনি বলেন, ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল না-বদলে এবার নিজের মনের অ্যাঙ্গেল বদলানো উচিত।
পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ও পেলেট গান ব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন— ঠিক কার নির্দেশে এই নিষ্পাপ শিক্ষার্থীদের ওপর অত্যাচার চালানো হলো?
‘সবচেয়ে বড় চুরি যুবসমাজের স্বপ্ন চুরি’
তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে মোদী সরকারের নীতিকে কাঠগড়ায় তুলে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী জোরালো ভাষায় বলেন, এই সরকারের আমলে দেশ অনেক চুরি দেখেছে— যেমন ভোটের চুরি, রামমন্দিরের অনুদানে চুরি, দেশের সম্পত্তি থেকে কৃষকদের জমি চুরি। কিন্তু এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অপরাধ হলো দেশের যুবসমাজের স্বপ্ন চুরি করা! এর চেয়ে বড় পাপ আর কিছু হতে পারে না।
তিনি আরও জানান, গত এক দশকে প্রায় ১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সাড়ে সাত কোটি পরীক্ষার্থীর জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়লেও সংশ্লিষ্ট কাউকেই উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হয়নি।
শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা ও প্রহ্লাদ জোশীকে ঘিরে বিতর্ক
সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের সরে দাঁড়ানো এবং পরবর্তীতে তাঁকে বিজেপি সাংসদদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানোর তীব্র সমালোচনা করেন প্রিয়াঙ্কা। তিনি বলেন, একদিকে মহারাষ্ট্রে প্রশ্ন ফাঁসের জেরে হতাশাগ্রস্ত এক ছাত্রীর মৃত্যু হচ্ছে, আর অন্যদিকে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে পুষ্পবৃষ্টি ও জিন্দাবাদ স্লোগানে সংবর্ধনা জানানো হচ্ছে।
এরপরই নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীকে নিয়ে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি। প্রিয়াঙ্কার অভিযোগ, বিলকিস বানো মামলার আসামিদের মুক্তির সমর্থনে বক্তব্য রাখা একজন ব্যক্তি কীভাবে দেশের শিক্ষামন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাবেন?
তাঁর এই মন্তব্যের পরেই সংসদ ভবনে চরম হট্টগোল শুরু হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এবং বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে প্রিয়াঙ্কার বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁর লিখিত ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন। হাঙ্গামা থামাতে শেষ পর্যন্ত লোকসভার স্পিকারের হস্তক্ষেপ করতে হয়।
টাস্কফোর্স নিয়ে কটাক্ষ
পরীক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য গঠিত নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বাধীন টাস্কফোর্স নিয়েও কেন্দ্রকে বিঁধতে ছাড়েননি কংগ্রেস সাংসদ। তাঁর দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর দায়িত্ব যাদের হাতে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে শিক্ষার মূল সমস্যা বোঝার মতো মানুষের অভাব রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীকে অবিলম্বে নিজের পরামর্শদাতা দল বদলানোর পরামর্শ দেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।
