রংধনু নয় পাঠ্যবইয়ে রামধনু পড়বে শিক্ষার্থীরা, শিক্ষাব্যবস্থার জল্পনায় বড় বার্তা শমীকের – এবেলা

রংধনু নয় পাঠ্যবইয়ে রামধনু পড়বে শিক্ষার্থীরা, শিক্ষাব্যবস্থার জল্পনায় বড় বার্তা শমীকের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থা এবং পাঠ্যক্রমের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে চলমান নানামুখী আলোচনার মাঝেই এক তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, রাজ্যের সিলেবাসে কোনো পরিবর্তন আনা হবে কি না, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারই গ্রহণ করবে। তবে এই প্রশাসনিক আলোচনার সমান্তরালে বাংলা ভাষার প্রাচীন ঐতিহ্য ও শুদ্ধ শব্দচর্চাকে অক্ষুণ্ণ রাখার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন তিনি। তাঁর মতে, ‘রংধনু’ শব্দের চেয়ে বাংলা সংস্কৃতির গভীরে প্রোথিত ‘রামধনু’ শব্দটিই শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমে থাকা বাঞ্ছনীয়।

ঐতিহ্য রক্ষা বনাম আধুনিক শব্দচয়ন

শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্য মূলত বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির দীর্ঘদিনের ধারাকে টিকিয়ে রাখার একটি প্রয়াস হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ‘রামধনু’ শব্দটি বাঙালি মনন ও চিরায়ত সাহিত্যে যুগ যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের একাংশের মতে, আধুনিকায়নের নামে কিংবা কোনো বিশেষ প্রবণতার বশে ভাষার এই চিরন্তন রূপ যেন হারিয়ে না যায়, সেই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই বার্তার মূল উদ্দেশ্য।

সংস্কৃতিভিত্তিক শিক্ষার ভবিষ্যৎ প্রভাব

এই মন্তব্যের সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে রাজ্যের শিক্ষানীতি ও রাজনৈতিক তরজায়। একদিকে যেমন মাতৃভাষা, মূল্যবোধ এবং সমৃদ্ধ শব্দভাণ্ডারের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার মানোন্নয়নের দাবি জোরালো হচ্ছে, অন্যদিকে এটি জাতীয় স্তরের শিক্ষানীতির ভাবনার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। সমালোচক ও শিক্ষাবিদদের একাংশ মনে করছেন, এই ধরনের অবস্থান আগামী দিনে পাঠ্যপুস্তকের শব্দ চয়ন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নির্ধারণে নীতিগত প্রভাব ফেলবে। ফলে নতুন প্রজন্ম শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই নয়, বরং ভাষার শিকড় ও মূল সংস্কৃতির সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *