রক্তাক্ত বাংলা! দ্বিতীয় দফার ভোটে তুমুল অশান্তি: বিজেপি প্রার্থীকে আক্রমণ, উদ্ধার নকল ইভিএম!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ চলাকালীন উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্যের বিভিন্ন জেলা। সকাল থেকেই ভোটদানকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, প্রার্থীর ওপর হামলা এবং বুথ এজেন্টদের মারধরের অভিযোগ সামনে এসেছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ, সর্বত্রই উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে, যার ফলে বিঘ্নিত হয়েছে সাধারণ জনজীবন ও স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।
হামলা ও কারচুপির অভিযোগ
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সরদারের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি বুথ পরিদর্শন করতে গেলে প্রায় ২৫০ জন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং নিরাপত্তারক্ষীর আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। অন্যদিকে, নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের মায়াপল্লীতে ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে বুথের ঠিক বাইরে ‘নকল ইভিএম’ রেখে নির্দিষ্ট চিহ্নে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নদিয়া জেলায় এক বিজেপি এজেন্টকে রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার ঘটনায় সরাসরি আঙুল উঠেছে শাসক শিবিরের দিকে।
ভোটের হার ও রাজনৈতিক প্রভাব
একাধিক হিংসাত্মক ঘটনার মধ্যেও সকাল ১১টা পর্যন্ত রাজ্যে গড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে। তবে ভাঙড়ে আইএসএফ এজেন্টের প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা এবং বিভিন্ন এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই অস্থিরতা ও বুথ দখলের প্রচেষ্টার ফলে ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যার প্রভাব শেষ দফার ফলাফল এবং সামগ্রিক জনমতের ওপর পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
এক ঝলকে
বেলা ১১টা পর্যন্ত রাজ্যে সামগ্রিক ভোটদানের হার ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ।
বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সরদারের গাড়িতে হামলা ও নিরাপত্তারক্ষীর অস্ত্র ছিনতাইয়ের চেষ্টা।
নোয়াপাড়ার মায়াপল্লীতে বুথের বাইরে ভোটারদের প্রভাবিত করতে ‘নকল ইভিএম’ উদ্ধার।
নদিয়ায় বিজেপি এজেন্টকে মারধর এবং ভাঙড়ে আইএসএফ এজেন্টের প্রবেশে বাধা।
