রক্তের সম্পর্কের আড়ালে লুকানো পিশাচ! কাকার লালসার শিকার হয়ে প্রাণ হারাল নাবালিকা- এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মহারাষ্ট্রের বীড জেলার কেজ তালুকায় মানবতার মাথা হেট করে দেওয়ার মতো এক নৃশংস ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। যে নিকটাত্মীয়ের কাছে একটি শিশুর নিরাপদ থাকার কথা, সেই সম্পর্কের বাঁধন ছিন্ন করে এক নাবালিকাকে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার কাকার বিরুদ্ধে। এই ভয়াবহ অপমান ও শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরী। ঘটনার বীভৎসতা কেবল একটি পরিবারকে নয়, বরং গোটা সমাজকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও পাশবিকতা
গত ৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় যখন ওই নাবালিকা গোয়ালঘরের কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিল, তখনই ওত পেতে থাকা তার এক নিকটাত্মীয় (চাচা) তাকে একা পেয়ে পথ আটকায়। নির্জনতার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি কিশোরীটিকে জোরপূর্বক ভেতরে টেনে নিয়ে যায় এবং তার ওপর পৈশাচিক যৌন নির্যাতন চালায়। পশুর চেয়েও অধম এই আচরণের শিকার হয়ে মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়ে শিশুটি।
বিচারহীনতার গ্লানি ও আত্মহত্যার পথ
নির্যাতনের পর লোকলজ্জা এবং অপমানের তীব্রতা সইতে না পেরে ওই কিশোরী বাড়িতে ফিরেই বিষপান করে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ছত্রপতি শম্ভাজিনগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সরকারি ‘ঘাটি’ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। দীর্ঘ দুই দিন আইসিইউ-তে যমে-মানুষে লড়াই করার পর শুক্রবার (১০ এপ্রিল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে সে।
পুলিশি তৎপরতা ও আইনি পদক্ষেপ
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে কাগে থানার পুলিশ দ্রুত সক্রিয় হয়। সাব-ইন্সপেক্টর উমেশ নিকাম কিশোরীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে:
- অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইনের কঠোর ধারা এবং হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
- অভিযুক্তকে ইতিপূর্বেই গ্রেপ্তার করে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
- ঘটনার পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে যাতে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।
জেলাজুড়ে ক্ষোভ ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি
এই পৈশাচিক ঘটনা জানাজানি হতেই বীড জেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও জনরোষ তৈরি হয়েছে। নারী সুরক্ষা সংগঠনগুলো রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, যে ব্যক্তি পশুর মতো আচরণ করে একটি ফুটফুটে শিশুর জীবন কেড়ে নিয়েছে, তার একমাত্র শাস্তি হওয়া উচিত মৃত্যুদণ্ড। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অপরাধীর কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ।
এক ঝলকে
- ঘটনার স্থান: মহারাষ্ট্রের বীড জেলার কেজ তালুকা।
- নিহত: ১৪ বছর বয়সী এক নাবালিকা।
- অভিযুক্ত: নির্যাতিতার আপন কাকা (নিকটাত্মীয়)।
- মূল ঘটনা: ৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় পাশবিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর বিষপান করে আত্মহত্যা।
- পুলিশি ব্যবস্থা: অভিযুক্ত গ্রেপ্তার এবং পকসো আইনে মামলা রুজু।
- বর্তমান পরিস্থিতি: অপরাধীর মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ।
