রবিবার কলকাতায় বিরাট ট্রাফিক জ্যামের আশঙ্কা! ১৬ ঘণ্টা বন্ধ বিদ্যাসাগর সেতু, কোন পথে যাবেন? জেনে নিন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আগামী রবিবার দিনভর তীব্র যানজট ও চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হতে পারেন কলকাতা ও হাওড়াবাসী। জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও কেবল পরিবর্তনের কাজের জন্য ওই দিন টানা ১৬ ঘণ্টা বিদ্যাসাগর সেতুতে (দ্বিতীয় হুগলি সেতু) সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে এই বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের বিকল্প রূপরেখা ঘোষণা করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, রবিবার ভোর ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই সেতুতে দ্বিমুখী যান চলাচল পুরোপুরি স্তব্ধ থাকবে। কাজ শেষ হওয়ার পর রাত ৯টার পর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের।
সংস্কারের তাগিদ ও বন্ধের কারণ
বিদ্যাসাগর সেতুর মতো ব্যস্ততম উড়ালপুলের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেই এই সাময়িক অচলাবস্থা। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সেতুর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাসপেনশন কেবল বা তার বদল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজের জন্যই এই মেগা ব্লক নেওয়া হয়েছে। ভারী ও হালকা যানবাহনের নিরবচ্ছিন্ন কম্পনের ফলে সেতুর যে ক্ষতি হয়, তা মেরামতের জন্যই এই ১৬ ঘণ্টার সময়সীমা অত্যন্ত জরুরি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
যানজটের আশঙ্কা ও পুলিশের বিকল্প রুট
রবিবার ছুটির দিন হলেও বিদ্যাসাগর সেতু বন্ধ থাকার কারণে কলকাতার সঙ্গে হাওড়া এবং সংলগ্ন জেলাগুলির সংযোগকারী অন্যান্য রাস্তায় তীব্র যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে হাওড়া ব্রিজ (রবীন্দ্র সেতু) ও বালি ব্রিজের ওপর গাড়ির চাপ এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যাবে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দার জারি করা নির্দেশিকায় বিকল্প রাস্তার বিবরণ দেওয়া হয়েছে:
- জিরাট আইল্যান্ডগামী গাড়ি: জিরাট আইল্যান্ড থেকে এজেন্সি বোস রোড হয়ে বিদ্যাসাগর সেতুর দিকে আসা গাড়িগুলোকে হেস্টিংস ক্রসিংয়ের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। এই গাড়িগুলি সেন্ট জর্জ রোড ও স্ট্যান্ড রোড ব্যবহার করতে পারবে।
- খিদিরপুর থেকে আসা গাড়ি: খিদিরপুর মোড় থেকে আসা গাড়িগুলিকে সরাসরি হেস্টিংস ক্রসিংয়ের দিকে ডাইভার্ট করা হবে।
- কেপি রোড হয়ে আসা গাড়ি: কেপি রোড ধরে বিদ্যাসাগর সেতুর দিকে যাওয়া গাড়িগুলিকে ওয়ান পয়েন্ট দিয়ে ১১ ফার্লং গেট হয়ে রেড রোড ধরে হাওড়া ব্রিজের দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে রবিবার সাধারণ মানুষকে যথাসম্ভব কম গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার এবং হাওড়া যাতায়াতের জন্য ট্রেন ও জলপথ তথা ফেরি পরিষেবা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
