রবির আলোয় নতুন শপথ, পঁচিশে বৈশাখে বঙ্গ রাজনীতিতে নবযুগের সূচনা?
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/09/rabi-01-2026-05-09-03-24-08.jpg)
বাঙালির মনন ও দর্শনের চিরন্তন আশ্রয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল একটি নাম নন, বরং সংকটে ও শান্তিতে এক অনিবার্য দিশারি। আজ ১৬৫তম রবীন্দ্রজয়ন্তীতে দাঁড়িয়ে বঙ্গ রাজনীতির এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ প্রত্যক্ষ করছে দেশ। বঙ্গে বয়ে যাওয়া রাজনৈতিক ঝড়ের আবহে এবারের পঁচিশে বৈশাখ নিছক কোনো ক্যালেন্ডারের পাতা নয়, বরং রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতীকের এক অনন্য মেলবন্ধনে পরিণত হয়েছে। বাঙালির আবেগ ও চিন্তার কারিগর কবিগুরুর জন্মদিনে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ এক গভীর তাৎপর্য বহন করছে।
সাংস্কৃতিক অস্মিতা ও রাজনীতির রসায়ন
বিগত দিনে বিজেপিকে বারবার ‘বহিরাগত’ তকমা বা হিন্দি বলয়ের দল হিসেবে চিহ্নিত করার যে রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরি হয়েছিল, পঁচিশে বৈশাখকে শপথগ্রহণের দিন হিসেবে বেছে নেওয়া সেই ধারণা ভাঙারই একটি কৌশলগত প্রয়াস। বাঙালির হৃদস্পন্দনের সঙ্গে মিশে যেতে রবীন্দ্রজয়ন্তীর মতো আবেগঘন দিনটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে ধুতি-পাঞ্জাবিতে দেখা যাওয়া কিংবা রবীন্দ্রসংগীতের আশ্রয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনা করার মধ্য দিয়ে মূলত জনমানসে বাঙালি অস্মিতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সোনার বাংলা গড়ার অঙ্গীকার ও আগামীর চ্যালেঞ্জ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সোনার বাংলা’ গড়ার স্বপ্নকে রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করে নতুন সরকার তাদের যাত্রা শুরু করেছে। এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের প্রয়োজনে রবীন্দ্রদর্শনকে ব্যবহার করলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা এক বিশেষ মাত্রা পেয়েছে। অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মুক্ত বুদ্ধি এবং ভয়শূন্য চিত্তের যে আদর্শ কবিগুরু প্রচার করেছিলেন, তা প্রশাসনিক পদক্ষেপে প্রতিফলিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির ঊর্ধ্বে উঠে রবীন্দ্রচেতনাকে বাস্তবে প্রয়োগ করাই হবে এই বিশেষ দিনের শপথের প্রকৃত সার্থকতা।
এক ঝলকে
- ১৬৫তম রবীন্দ্রজয়ন্তীতে বঙ্গ রাজনীতির এক ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন ও নতুন পথচলা শুরু।
- বাঙালির সাংস্কৃতিক আবেগ ও অস্মিতাকে গুরুত্ব দিতে পঁচিশে বৈশাখকে শপথগ্রহণের দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
- ‘বহিরাগত’ তকমা ঘুচিয়ে সাধারণ মানুষের মনের কাছাকাছি পৌঁছাতে রবীন্দ্রদর্শনকে হাতিয়ার করছে রাজনৈতিক শক্তি।
- কবির আদর্শ অনুযায়ী অসাম্প্রদায়িক ও ভয়শূন্য বাংলা গড়া নতুন সরকারের সামনে এখন প্রধান পরীক্ষা।
