রয়্যাল বেঙ্গলের গরিমা ফেরাতে বেঙ্গল সাফারিতে নতুন অতিথি ‘নগমণি’, শুরু বাঘ বিনিময় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
শিলিগুড়ি: একই পরিবারের মধ্যে প্রজননের ফলে বাঘের জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং গরিমা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই সমস্যা রুখতে বড় পদক্ষেপ নিল বেঙ্গল সাফারি কর্তৃপক্ষ। দার্জিলিং চিড়িয়াখানার সঙ্গে বাঘ বিনিময়ের মাধ্যমে সাফারি পার্কে আনা হলো সাদা বাঘিনি ‘নগমণি’-কে।
কেন এই অদলবদল?
বেঙ্গল সাফারি পার্কে বাঘের সংখ্যা সন্তোষজনক হলেও, বছরের পর বছর একই পরিবারের মধ্যে প্রজনন চলায় জিনগত বৈচিত্র্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। অতীতে ওড়িশার সিমলিপালে একই কারণে বাঘেদের গায়ের স্বাভাবিক হলুদ-কালো ডোরাকাটা রং হারিয়ে তারা প্রায় কালো হয়ে গিয়েছিল। বেঙ্গল সাফারিতে সেই একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি এড়াতেই কর্তৃপক্ষ এই প্রজননগত পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কীভাবে সম্পন্ন হলো বিনিময়?
কিছুদিন আগে পর্যটকদের ভিড়ের কারণে বাঘ বিনিময়ের কাজ স্থগিত রাখতে হয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতেই বৃহস্পতিবার সকালে শিলিগুড়ি থেকে আড়াই বছর বয়সি বাঘিনি ‘এস২’ (শিলা ও বিভানের কন্যা)-কে পাঠানো হয়েছে দার্জিলিং চিড়িয়াখানায়। পরিবর্তে সেখান থেকে দশ বছর বয়সি সাদা বাঘিনি নগমণিকে গ্রিন করিডর করে নিয়ে আসা হয়েছে বেঙ্গল সাফারিতে।
দর্শকদের জন্য সুখবর:
- কোয়ারান্টাইনে নগমণি: আপাতত নতুন অতিথি নগমণিকে কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে। তার সঙ্গে আসা দার্জিলিংয়ের কিপার তাকে নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করছেন।
- ফিরছে রাজকীয় দর্শন: দার্জিলিং চিড়িয়াখানায় দুটি সাদা বাঘ (আকাশ ও নগমণি) থাকলেও, বেঙ্গল সাফারিতে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের গরিমা ফেরাতে নগমণির আগমন গুরুত্বপূর্ণ। এই বিনিময়ের ফলে দার্জিলিংয়ের দর্শকরাও ফের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত হলুদ-কালো ডোরাকাটা রয়্যাল বেঙ্গলের দর্শন পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
কর্তৃপক্ষের আশা, নগমণির আগমনে বেঙ্গল সাফারির বাঘ্রকুলের জিনগত স্বাস্থ্য ও বৈচিত্র্য আগামী দিনে আরও উন্নত হবে।
