রাজনীতিতে নতুন ঝড়, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নিয়ে উদ্বেগ ওড়াল আরএসএস – এবেলা

রাজনীতিতে নতুন ঝড়, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নিয়ে উদ্বেগ ওড়াল আরএসএস – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

খাতায়কলমে কোনও রাজনৈতিক দল না হলেও বর্তমান ভারতের রাজনীতি ও সামাজিক মাধ্যমে সবচেয়ে চর্চিত বিষয় হয়ে উঠেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। খুব অল্প সময়ে জনপ্রিয়তার নিরিখে দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলিকে পিছনে ফেলে দিয়েছে এই মঞ্চ। এই নিয়ে যখন রাজনৈতিক মহলে তুমুল শোরগোল, ঠিক তখনই এই মঞ্চকে ঘিরে তৈরি হওয়া সমস্ত উদ্বেগ উড়িয়ে দিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)। সংঘের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে ভিন্নমত অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয়।

আরএসএসের বার্তা ও গণতন্ত্রের শক্তি

সম্প্রতি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আরএসএস নেতা সুনীল আম্বেকার জানান, ভারতীয় গণতন্ত্রে সকল কণ্ঠস্বর এবং আবেগকে স্থান দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। ভারত একটি সচেতন ও গণতান্ত্রিক দেশ, যেখানে স্বচ্ছ নির্বাচন, উন্মুক্ত গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমের মতো ক্ষেত্র বিদ্যমান। ফলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে যে কোনও ধরনের আলোচনা এবং মতপ্রকাশকে স্বাভাবিক ভাবেই দেখা উচিত, এতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। একই সঙ্গে দেশের যুবসমাজ বা ‘জেন জি’র ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে তিনি জানান, তরুণ প্রজন্ম দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী।

জনপ্রিয়তা এবং অ্যাকাউন্ট বাতিলের বিতর্ক

এই মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক একটি পোস্টে দাবি করেছিলেন, বিজেপি নিজেকে বিশ্বের বৃহত্তম পার্টি বললেও জনপ্রিয়তায় তাদের টপকে যেতে সিজেপির মাত্র চারদিন সময় লেগেছে। তবে এই মন্তব্যের কিছু ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) থেকে উধাও হয়ে যায় ককরোচ জনতা পার্টির অফিশিয়াল হ্যান্ডেল। গোয়েন্দা সংস্থা আইবির (ইনটেলিজেন্স ব্যুরো) দাবি, জাতীয় সুরক্ষার স্বার্থে এই অ্যাকাউন্টটি বিপজ্জনক ছিল। অন্যদিকে, কেন্দ্রের নির্দেশে অ্যাকাউন্ট বন্ধের এই অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, কোনও উসকানিমূলক বা অন্যায় মন্তব্য না করে শুধু সামাজিক ইস্যুতে পোস্ট করা সত্ত্বেও কেন তাঁদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হলো, তার কোনও সদুত্তর কেন্দ্র দেয়নি।

সামাজিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ

ডিজিটাল দুনিয়ায় এই ধরনের ঝোড়ো উত্থান এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাকাউন্ট বাতিলের ঘটনাটি মুক্ত মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। একদিকে জাতীয় সুরক্ষার প্রশ্ন, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের ডিজিটাল প্রতিবাদের ভাষা— এই দুইয়ের টানাপোড়েনে ককরোচ জনতা পার্টির ভবিষ্যৎ কোন দিকে যায়, এখন সেটাই দেখার। তবে আরএসএসের মতো সংগঠনের এমন নমনীয় অবস্থান এই পরিস্থিতিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *