রাজনীতি কি তাঁর জীবনের ‘ভুল’? বোফর্স বিতর্ক ও সাংসদ পদ ছাড়ার নেপথ্যের সেই অমিতাভ – এবেলা

রাজনীতি কি তাঁর জীবনের ‘ভুল’? বোফর্স বিতর্ক ও সাংসদ পদ ছাড়ার নেপথ্যের সেই অমিতাভ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজনীতির ময়দানে অমিতাভ বচ্চনের সেই বিতর্কিত তিন বছর

বলিউডের ‘শাহেনশাহ’ অমিতাভ বচ্চনের দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের একটি অধ্যায় আজও আলোচনার কেন্দ্রে থাকে, আর তা হলো তাঁর স্বল্পস্থায়ী রাজনৈতিক জীবন। ১৯৮৪ সালে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে রাজনীতিতে পা রাখলেও, মাত্র তিন বছরের মাথায় বিতর্কের মুখে পড়ে সাংসদ পদ ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। আবেগের বশে নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে অভিনেতা নিজেই পরবর্তী সময়ে তাঁর জীবনের ‘সবচেয়ে বড় ভুল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর বন্ধুর অনুরোধে ও পারিবারিক সম্পর্কের খাতিরে ১৯৮৪ সালে এলাহাবাদ কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের টিকিটে নির্বাচনে দাঁড়ান অমিতাভ। হেভিওয়েট নেতা হেমবতী নন্দন বহুগুণাকে বিপুল ভোটে হারিয়ে সংসদে গেলেও, রাজনীতির জটিল অলিগলি তাঁকে শুরু থেকেই অস্বস্তিতে ফেলেছিল। কাজের পরিবেশ, দলীয় অভ্যন্তরীণ সমীকরণ এবং ক্রমাগত রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে তিনি বুঝতে পারেন, এই ক্ষেত্র তাঁর জন্য মোটেও উপযুক্ত নয়।

বোফর্স কেলেঙ্কারি ও রাজনৈতিক জীবনের ইতি

অভিনেতার রাজনৈতিক জীবনে চূড়ান্ত বিপর্যয় নেমে আসে ১৯৮৭ সালে, যখন দেশজুড়ে বোফর্স কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে। সুইডিশ অস্ত্র প্রস্তুতকারী সংস্থার ঘুষ কাণ্ডে অমিতাভ এবং তাঁর ভাই অজিতাভ বচ্চনের নাম জড়িয়ে পড়ে, যা তাঁর ভাবমূর্তিতে মারাত্মক আঘাত হানে। যদিও পরবর্তীতে আইনি লড়াইয়ে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন এবং তদন্তেও ক্লিনচিট পান, কিন্তু ততদিনে রাজনীতির প্রতি তাঁর অনীহা চরমে পৌঁছেছে।

রাজনীতির এই তিক্ত অভিজ্ঞতা অমিতাভ বচ্চনের ব্যক্তিগত জীবনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছিল। এই সময়কালকে তিনি ‘নরকসম’ বলে অভিহিত করেছিলেন। ১৯৮৭ সালে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তিনি পুরোপুরি অভিনয়ের জগতে ফিরে আসেন। রাজনীতির ময়দানে এলাহাবাদের মানুষের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করতে না পারার আক্ষেপ আজও তাঁর মনে রয়ে গেছে বলে একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন। সক্রিয় রাজনীতির জগত থেকে চিরতরে বিদায় নিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, রূপালি পর্দার নায়ক হওয়া আর রাজনীতির জটিল সমীকরণ মেলানো এক নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *