রাজনীতি ভুলে দেবের প্রশংসায় পঞ্চমুখ রূপা, টলিপাড়ায় কি তবে নতুন সমীকরণ? – এবেলা

রাজনীতি ভুলে দেবের প্রশংসায় পঞ্চমুখ রূপা, টলিপাড়ায় কি তবে নতুন সমীকরণ? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই টলিউডে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বৃত্তে থাকা ব্যক্তিত্বদের সরিয়ে চলচ্চিত্র জগতের হাল ফেরানোর দায়িত্ব এখন নতুন নেতৃত্বের হাতে। এই রদবদলের আবহে যখন শাসক ও বিরোধী শিবিরের দূরত্ব বাড়ছে, ঠিক তখনই এক ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা গেল টলিপাড়ায়। তৃণমূলের তারকা সাংসদ দেবের প্রশংসায় মেতে উঠলেন বিজেপির বিধায়ক তথা বর্ষীয়ান অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে গিয়ে দেবের এই প্রশংসা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

টলিপাড়ায় ক্ষমতার ভরকেন্দ্র বদল

রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী টলিউডের নানাবিধ সমস্যা সমাধানের দায়িত্বভার সঁপে দিয়েছেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী ও হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের ওপর। ফলে বিগত দীর্ঘ সময় ধরে ইন্ডাস্ট্রির নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’ অর্থাৎ অরূপ ও স্বরূপ বিশ্বাসের একাধিপত্যের অবসান ঘটেছে। নতুন নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছেন, টলিপাড়ায় বহু বছর ধরে চলা ‘ব্যান কালচার’ এবং ফেডারেশনের ‘দাদাগিরি’ পুরোপুরি বন্ধ করা হবে। শিল্পী ও কলাকুশলীরা যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করাই তাদের মূল লক্ষ্য। এই পালাবদলের জেরে বিদায়ী শাসকদল ঘনিষ্ঠ বহু তারকা যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষের শিকার হচ্ছেন এবং ব্যাকফুটে চলে গিয়েছেন, তখন একমাত্র ব্যতিক্রম হিসেবে উঠে এসেছে দেবের নাম।

সৌহার্দ্য ও পেশাদারিত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত

বিজেপি ঘনিষ্ঠ অভিনেতারা যখন ইন্ডাস্ট্রিতে অলিখিত নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হচ্ছিলেন, দেব তখন বরাবরই সেই ‘ব্যান কালচার’-এর বিরোধিতা করেছেন। রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হওয়া সত্ত্বেও তিনি মিঠুন চক্রবর্তী থেকে শুরু করে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে কাজ করেছেন। এমনকি রূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে নিজের ‘রঘু ডাকাত’ ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে সুযোগ দিতেও দ্বিধা করেননি। বিরোধী শিবিরের শিল্পীদের নিয়ে কাজ করার জন্য দেবকে নন্দনে ছবি প্রদর্শনীর ক্ষেত্রেও নানা ঝক্কি পোহাতে হয়েছিল। তা সত্ত্বেও তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরেননি। সম্প্রতি দীর্ঘ এক দশক পর নন্দনে পা রেখে আবেগপ্রবণ রূপা গঙ্গোপাধ্যায় অকপটে স্বীকার করেন যে, দেব কোনোদিন রাজনৈতিক বাছবিচার করেননি এবং সাধ্যমতো সবাইকে নিয়ে চলার চেষ্টা করেছেন।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও সৌহার্দ্যের বার্তা

রাজনৈতিক বৈরিতার মাঝে দেব এবং রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের এই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও কাজের রসায়ন টলিউডের ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ বদলে দিতে পারে। ইন্ডাস্ট্রির একটা বড় অংশ মনে করছে, নতুন সরকারের অধীনে টলিপাড়ার সার্বিক সংস্কারের ক্ষেত্রে এই ধরনের অরাজনৈতিক পেশাদার সম্পর্ক অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, কেবল চারজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি নয়, বরং ইন্ডাস্ট্রির সবাই মিলেই আগামীদিনে টলিউডকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। এই সৌজন্যের রাজনীতি টলিপাড়ার দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও অচলাবস্থা কাটিয়ে একটি সুস্থ কাজের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *