রাজস্থানে পথকুকুরের পালের নৃশংস হামলা আর ৯ বছরের কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যু!

রাজস্থানে পথকুকুরের পালের নৃশংস হামলা আর ৯ বছরের কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যু!

রাজস্থানের বুন্দি জেলা এক ভয়াবহ এবং হাড়হিম করা ঘটনার সাক্ষী থাকল। তালেরা থানার অন্তর্গত আলকোডিয়া গ্রামে এক পাল ক্ষুধার্ত ও হিংস্র পথকুকুরের আক্রমণে প্রাণ হারাল মাত্র ৯ বছর বয়সী এক নাবালিকা। বুধবারের এই নৃশংস ঘটনাটি কেবল একটি পরিবারের প্রদীপ নিভিয়ে দেয়নি বরং গোটা রাজ্যের জননিরাপত্তা এবং পথকুকুর দমনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে যে মৃত কিশোরীর নাম রিঙ্কু ভিল। সে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বুধবার সকালে যখন প্রতিদিনের মতো বাড়ির পাশের একটি নির্জন মাঠে শৌচকর্ম করতে গিয়েছিল রিঙ্কু। গ্রামের প্রান্তে থাকা সেই নির্জন এলাকায় তাকে একা পেয়ে অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে ১০ থেকে ১২টি পথকুকুরের একটি দল। কিশোরীর আর্তচিৎকার শুনে তার বাবা ও পরিবারের সদস্যরা লাঠিসোটা নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে এলেও ততক্ষণে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গিয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন যে কুকুরের পালটি এতটাই হিংস্র হয়ে উঠেছিল যে শিশুটিকে ছাড়াতে গ্রামবাসীদের বেগ পেতে হয়। রক্তাক্ত ও অচৈতন্য অবস্থায় তাকে তালেরা কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মাঠেই শেষ শৈশব আর পরিকাঠামোগত সংকটের খতিয়ান

এই মর্মান্তিক মৃত্যু গ্রামীণ রাজস্থানের এক রূঢ় বাস্তবকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। বাড়ির ভেতর পর্যাপ্ত শৌচালয় না থাকা অথবা অভ্যাসবশত ফাঁকা মাঠে যাওয়ার যে সংস্কৃতি তা অনেক ক্ষেত্রেই শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে ভোরের আলো ফোটার আগে বা নির্জন সময়ে ছোট শিশুরা যখন একা বাইরে বের হয় তখন তারা বন্য জন্তু বা হিংস্র কুকুরের সহজ লক্ষ্যে পরিণত হয়। আলকোডিয়া গ্রামের ক্ষেত্রেও দেখা গিয়েছে যে বসতির বাইরে থাকা ওই মাঠটি দীর্ঘদিনের নির্জন এলাকা হওয়ায় সেখানে পথকুকুরদের উপদ্রব ছিল চোখে পড়ার মতো। চিকিৎসকদের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী কিশোরীর ঘাড় ও শ্বাসনালীতে গভীর ক্ষত হওয়ার কারণেই দ্রুত মৃত্যু ঘটেছে। এই প্রয়াণ আবারও প্রমাণ করল যে নাগরিক পরিকাঠামোর অভাব কত বড় মাসুল দাবি করতে পারে।

নিষ্ক্রিয় প্রশাসন আর সারমেয় বাহিনী নিয়ে ক্রমেই বাড়ছে আতঙ্ক

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বুন্দি জেলা জুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামবাসীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল যে এলাকায় পথকুকুরের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের নির্বীজকরণ বা নিয়ন্ত্রণের কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তালেরা থানার পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে এবং ময়নাতদন্তের পর কিশোরীর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের ক্ষোভ প্রশমিত হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের দাবি যে পথকুকুররা এখন আর কেবল কামড়ানোর স্তরে নেই বরং তারা পালের শক্তিতে শিশুদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালাচ্ছে। এই ঘটনা রাজস্থানের অন্যান্য প্রান্তেও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিকে জোরালো করেছে। প্রশাসন যদি দ্রুত এই সারমেয় বাহিনীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ না নেয় তবে আগামী দিনে এই ধরণের মর্মান্তিক পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

প্রতিবেদক বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *