রাজস্বে বড় সাফল্য, এক মাসেই সরকারি কোষাগারে ১০০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি – এবেলা

রাজস্বে বড় সাফল্য, এক মাসেই সরকারি কোষাগারে ১০০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোয় এক ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। রাজ্য সরকার গঠনের প্রথম মাসেই সরকারি কোষাগারে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেছে রাজ্য বিজেপি। তাদের মতে, সঠিক নীতি, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং কঠোর নজরদারির ফলেই এই অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।

রাজস্ব বৃদ্ধির নেপথ্যে কী কী কারণ?

১. খনিজ সম্পদে কঠোর নজরদারি: বিজেপি নেতাদের দাবি, বালি, কয়লা এবং পাথর খাদানের মতো ক্ষেত্রগুলিতে আগে যে ব্যাপক দুর্নীতি ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠত, তা এখন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে। নতুন নিয়ম ও কড়া আইনি নজরদারির ফলে অবৈধ কারবার বন্ধ হয়ে সঠিক কর ও রয়্যালটি সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা পড়ছে।

২. ভূমি নিবন্ধীকরণ ও ডিজিটাল রূপান্তর: রাজ্যের জমি রেজিস্ট্রি বা ল্যান্ড রেজিস্ট্রেশন বিভাগেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটিকে ডিজিটাল করার ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যেমন কমেছে, তেমনই দুর্নীতির সুযোগও বন্ধ হয়েছে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট কমায় এবং কর ফাঁকির রাস্তা বন্ধ হওয়ায় রাজস্ব আয়ের গতি বেড়েছে।

রাজনৈতিক প্রচার ও দাবি

এই সাফল্যকে সামনে রেখে বিজেপি একটি বিশেষ প্রচারপত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। দলের দাবি, তৃণমূল জমানার দুর্নীতি ও রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ হওয়াই এই আয়ের মূল কারণ। গেরুয়া শিবিরের মতে, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির মাধ্যমেই রাজ্যের কোষাগারকে স্বাবলম্বী করে তোলা সম্ভব, যার প্রমাণ এই প্রথম মাসের ফলাফল।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত

অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজ্যের স্থায়ী উন্নয়নের জন্য নিজস্ব রাজস্ব বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। যদি এই ১,০০০ কোটি টাকার বাড়তি আয় অব্যাহত থাকে, তবে কেন্দ্রীয় বরাদ্দের ওপর নির্ভরতা কমে পশ্চিমবঙ্গ অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। সংগৃহীত এই অর্থ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে সঠিকভাবে ব্যয় করা গেলে রাজ্যের সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাবেন বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *