রাজ্যে দ্বিগুণ হচ্ছে বার্ধক্য ও বিধবা ভাতা, ১ জুন থেকেই অ্যাকাউন্টে মিলবে বর্ধিত টাকা

রাজ্যে দ্বিগুণ হচ্ছে বার্ধক্য ও বিধবা ভাতা, ১ জুন থেকেই অ্যাকাউন্টে মিলবে বর্ধিত টাকা

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে বড়সড় রদবদল ঘটানো হলো। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের পর এবার বার্ধক্য, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা দ্বিগুণ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান প্রশাসন। বুধবার রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করেন। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ প্রবীণ নাগরিক ও বিশেষভাবে সক্ষম মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।

ভাতার পরিমাণ ও কার্যকারিতার সময়সীমা

নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মেনেই এই ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, আগামী ১ জুন থেকে উপভোক্তারা বর্ধিত হারে টাকা পাবেন। এর আগে রাজ্যে যে পরিমাণ বিধবা, বার্ধক্য ও প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়া হতো, নতুন নিয়মে তা একলাফে দ্বিগুণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, আগামী মাস থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ২ হাজার টাকা করে পৌঁছে যাবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আগের সরকারের চালু করা কোনো সামাজিক প্রকল্পই বন্ধ করা হবে না, বরং সেগুলির উপযোগিতা আরও বাড়ানো হবে।

ডিবিটি ও স্বচ্ছতায় জোর

প্রশাসনিক স্তরে এই প্রকল্পগুলিকে আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সমস্ত সরকারি অফিসকে পেপারলেস বা কাগজহীন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে এবং পোর্টালগুলি দ্রুত আপডেট করা হবে। প্রতিটি উপভোক্তা ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি-র মাধ্যমে সরাসরি অ্যাকাউন্টে টাকা পাবেন। তবে এই ক্ষেত্রে কড়া নিয়মাবলিও কার্যকর করা হচ্ছে। কোনো মৃত ব্যক্তি বা অ-ভারতীয় নাগরিক যাতে এই প্রকল্পের সুবিধা না পান, সেদিকে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক প্রভাবে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা

বিশেষজ্ঞদের মতে, মহার্ঘতার এই বাজারে ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতায় মহিলারা যেমন ৩ হাজার টাকা পেতে চলেছেন, তেমনই প্রবীণ ও বিধবাদের হাতে বাড়তি টাকা আসায় গ্রামীণ অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়বে। প্রশাসনিক স্তরে স্বচ্ছতা বজায় থাকলে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে দ্রুত পরিষেবা পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *