রাজ্যে ৫৮ বিধায়কের পর এবার দিল্লিতে ২০ তৃণমূল সাংসদের বিদ্রোহ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে কার্যত ভূমিকম্প। রাজ্য বিধানসভায় ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়কের দলত্যাগের এবং নতুন বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দিল্লিতেও বড়সড় ভাঙনের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রায় ২০ জন দলীয় সাংসদ এবার এনডিএ শিবিরে যোগ দেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছেন, যা সর্বভারতীয় রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন পালাবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গভীর রাতে তৎপরতা ও জোড়া বৈঠক
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে তৃণমূলের এই বিদ্রোহী সাংসদরা দিল্লিতে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে গিয়েছিলেন এনডিএ-তে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করতে। তবে সেই সময় তিনি বাড়িতে না থাকায় সরাসরি আলোচনা সম্ভব হয়নি। এরপর রাতেই সাংসদ শতাব্দী রায়ের বাসভবনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই রাতের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। দিল্লিতে এই ধারাবাহিক বৈঠক ও তৎপরতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।
বিজেপির কৌশল ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই মেগা দলবদলের নেপথ্যে মূলত বিজেপির একটি সুনির্দিষ্ট কৌশলগত অঙ্ক রয়েছে। সংসদে ‘মহিলা সংরক্ষণ বিল’ এবং ‘এক দেশ এক ভোট’-এর মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলি অনায়াসে পাশ করানোর জন্য শাসক জোটের অতিরিক্ত কিছু সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। তৃণমূলের এই ২০ জন সাংসদ এনডিএ-তে যোগ দিলে সংসদে বিজেপির শক্তি যেমন এক ধাক্কায় অনেকটা বৃদ্ধি পাবে, তেমনই রাজ্য ও জাতীয় স্তরে তৃণমূল কংগ্রেস বড়সড় অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। এর ফলে বিরোধী শিবির রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক উভয় দিক থেকেই দুর্বল হয়ে পড়বে।
