রান্নাঘরে এবার কি তেলের আকাল! ভারতের বাজারে পাম তেলের তীব্র সঙ্কটে দুশ্চিন্তায় সাধারণ মানুষ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পেঁয়াজ ও রসুনের চড়া দামের পর এবার মধ্যবিত্তের রান্নাঘরে নতুন উদ্বেগের নাম ভোজ্য তেল। বিশ্বের বৃহত্তম পাম তেল আমদানিকারক দেশ হওয়া সত্ত্বেও ভারত এক অভূতপূর্ব সরবরাহ সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলো থেকে আমদানির পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় দেশীয় বাজারে ভোজ্য তেলের জোগান নিয়ে টানাপড়েন শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের মারপ্যাঁচ ও সরবরাহ হ্রাস
বিশ্বের প্রধান পাম তেল উৎপাদনকারী দেশগুলি বর্তমানে তাদের অভ্যন্তরীণ জৈব জ্বালানি বা বায়ো-ফুয়েল নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। এর ফলে তারা ভোজ্য তেল রপ্তানিতে কাটছাঁট করতে শুরু করেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের আমদানিতে। বছরে গড়ে প্রায় ৯০ লক্ষ টন পাম তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল ভারতের অভ্যন্তরীণ মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রায় প্রভাব
পাম তেলের জোগান কমলে শুধু রান্নার খরচই বাড়বে না, বরং এর প্রভাব পড়বে সামগ্রিক খাদ্য ও প্রসাধন শিল্পে। বিস্কুট, চিপস, চকোলেট থেকে শুরু করে সাবান তৈরির অপরিহার্য উপাদান হলো পাম তেল। ফলে এই পণ্যের জোগান কমলে স্বাভাবিকভাবেই সয়াবিন ও সরষের তেলের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে, যা সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দিতে পারে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানির পথ খুঁজছে এবং বাজারে কৃত্রিম অভাব ঠেকাতে নজরদারি জোরদার করেছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের এই অচলাবস্থা দ্রুত না কাটলে সাধারণ মানুষের পকেটে বড় ধরনের টান পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এক ঝলকে
- আন্তর্জাতিক রপ্তানি নীতি পরিবর্তনের কারণে ভারতে পাম তেলের আমদানিতে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
- রান্নার তেলের পাশাপাশি বিস্কুট, চকোলেট ও সাবানের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ার আশঙ্কা।
- বিশ্বের বৃহত্তম আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের বার্ষিক ৯০ লক্ষ টন তেলের চাহিদাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
- পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিকল্প আমদানির উৎস ও কালোবাজারি রুখতে সক্রিয় হচ্ছে প্রশাসন।
