রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র থেকে বায়ুসেনা, তারপর শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক— কে এই নিহত চন্দ্রনাথ?

আগামী শনিবার ব্রিগেড ময়দানে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। সেই মাহেন্দ্রক্ষণের ঠিক প্রাক্কালে বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের রাস্তায় দুষ্কৃতীদের গুলিতে প্রাণ হারালেন শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। খুনের ধরণ দেখে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং পেশাদার ঘাতকদের কাজ। ঘটনার ভয়াবহতা বিচার করে ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশ ও সিআইডি-র সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে।
মেধাবী ছাত্র থেকে রাজনীতির আঙিনা
পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের বাসিন্দা চন্দ্রনাথের বেড়ে ওঠা রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের আদর্শে। মেধাবী এই যুবক কর্মজীবনের শুরুতে ভারতীয় বায়ুসেনায় যোগ দিলেও আধ্যাত্মিকতা ও রাজনীতির টানে সেই চাকরি ছেড়ে দেন। পরিবারের রাজনৈতিক পটভূমি থাকায় ২০১৯ সালে তৎকালীন জলসম্পদ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। গত কয়েক বছরে শুভেন্দুর অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও দক্ষ ছায়াসঙ্গী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন বছর চল্লিশের এই যুবক। রাজনৈতিক মহলে চর্চা ছিল, নতুন সরকারে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনে বড় কোনো দায়িত্বে দেখা যেতে পারত এই প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মীকে।
পেশাদার খুনি ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, বুধবার রাতে গাড়ি করে ফ্ল্যাটে ফেরার পথে চন্দ্রনাথের গতিরোধ করে অন্য একটি গাড়ি। মুহূর্তের মধ্যে বাইকে করে আসা দুই দুষ্কৃতী খুব কাছ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে পর পর গুলি চালায়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আততায়ীরা যে দীর্ঘ সময় ধরে চন্দ্রনাথের গতিবিধি নজরে রাখছিল, সে বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত। খুনে ব্যবহৃত গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হলেও তাতে ভুয়ো নম্বর প্লেট মিলেছে।
নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব
শপথ অনুষ্ঠানের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে এমন হাই-প্রোফাইল খুনের ঘটনায় রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মধ্যমগ্রাম ও সংলগ্ন এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য গঠিত হয়েছে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল। এই ঘটনার জেরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ার পাশাপাশি নতুন সরকারের প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জও কয়েক গুণ বেড়ে গেল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
