রামমন্দিরে অনুদান চুরি: “লজ্জাবোধ বলে কিছু নেই”, দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক এলাহাবাদ হাইকোর্ট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রামমন্দিরের মতো পবিত্র ধর্মীয় স্থানের অনুদান চুরির ঘটনায় অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। উত্তরপ্রদেশ সরকারের বুলডোজ়ার নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির মামলার শুনানিতে আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, পবিত্র স্থানের অনুদান চুরিতেও যাঁরা বিন্দুমাত্র বিচলিত হন না, সমাজের সেই অংশের মধ্যে কোনো লজ্জাবোধ অবশিষ্ট নেই।
এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতির বিস্ফোরক মন্তব্য
শুনানি পর্বে বিচারপতি অতুল শ্রীধরণ নৈতিক অবক্ষয় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দুর্নীতি বর্তমানে এতটাই স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে যে অপরাধ ধরা না পড়া পর্যন্ত মানুষ এটিকে অপরাধ বলেই মনে করে না। এই নৈতিক পতন রোধ করতে রাজ্য সরকারের উচিত ১৯৮৮ সালের ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন’ সংশোধন করে আরও কঠোর শাস্তির বিধান এবং দুর্নীতিগ্রস্তদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের মতো চরম শাস্তির ব্যবস্থা করা।
বিচারপতি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল’-এর দুর্নীতি সূচকে ১৮২টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান নেমে ৯১ নম্বরে পৌঁছানো সত্ত্বেও দেশবাসীর মধ্যে কোনো অনুতাপ নেই। এই লাগামছাড়া দুর্নীতির ফলে দেশের মোট সম্পত্তির সিংহভাগ হাতে গোনা কিছু মানুষের হাতে চলে যাচ্ছে, যা ধনী ও দরিদ্রের ব্যবধানকে বিপজ্জনকভাবে বাড়িয়ে তুলছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দেশে ভয়াবহ সামাজিক বিদ্রোহ দেখা দিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
সুপ্রিম কোর্টে রামমন্দির অনুদান চুরির মামলার আপডেট
অন্যদিকে, রামমন্দিরের প্রণামী ও সামগ্রী চুরির সমান্তরাল মামলাটি বর্তমানে দেশের সর্বোচ্চ আদালতেও বিচারাধীন। সম্প্রতি ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহানের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। আদালত পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, এই চুরির ঘটনাটি একটি সাধারণ অপরাধমূলক মামলা এবং এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।
শুনানিতে উত্তরপ্রদেশ সরকার একটি অগ্রগতি রিপোর্ট জমা দিয়ে জানায়, রামমন্দির চুরির ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৮ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং চুরি যাওয়া নগদ টাকার মধ্যে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আগামী ২৭ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে, সেদিন রাজ্য সরকারকে তদন্তের আপডেট সংক্রান্ত সম্পূর্ণ রিপোর্ট ফের আদালতে পেশ করতে হবে।
