রাশিয়ার ১৭ এলাকায় ইউক্রেনের নজিরবিহীন ড্রোন হামলা, নিহত ৬; জ়েলেনস্কির শহরে পাল্টা নারকীয় তোপ দাগল মস্কো – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাশিয়ার ভেতরে ঢুকে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় ও বিধ্বসংসী হামলা চালাল ইউক্রেনীয় সেনা। রবিবার রাশিয়ার প্রায় ১৭টি অঞ্চলে একযোগে শত শত ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে একাধিক আবাসিক ভবন, শপিং মল এবং গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস কেন্দ্র। রাশিয়ার রোস্তভ ও বেলগোরোদ অঞ্চলে অন্তত ৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন বহু মানুষ। যুদ্ধের শুরু থেকে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে কিয়েভের পক্ষ থেকে এটিই সবচেয়ে বড় আক্রমণ বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
ইউক্রেনের হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল রাজধানী মস্কো এবং রুশ সেনার রসদ সরবরাহ লাইনকে অচল করে দেওয়া। হামলার শুরুতেই মস্কো অঞ্চলে রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন খুচরো বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াইল্ডবেরিজ়’-এর একটি বিশালাকার গুদামে বিস্ফোরক ভর্তি ড্রোন আঘাত হানে। সাথে সাথে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে পুরো গোডাউন, আকাশে কুণ্ডলী পাকিয়ে ওঠে ঘন কালো ধোঁয়া। উল্লেখ্য, এই ওয়াইল্ডবেরিজ় রুশ বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী সরবরাহের কাজে যুক্ত ছিল।
হামলা চালানো হয় রোস্তভ ও বেলগোরোদের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতেও। রোস্তভের গভর্নর ইউরি স্লিউসার জানিয়েছেন, সেখানে ইউক্রেনীয় হামলায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বেলগোরোদে একটি যাত্রীবাহী বাসে ড্রোন হামলায় ১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। মূলত রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন কেন্দ্র, জ্বালানি কারখানা ও রসদের গুদাম ধ্বংস করে রুশ বাহিনীকে কোণঠাসা করাই ইউক্রেনের মূল লক্ষ্য। কিয়েভ জানিয়েছে, রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এ দিন ইউক্রেনের ৮২২টি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার দাবি করেছে।
ইউক্রেনের এই আক্রমণের পর নীরব থাকেনি রাশিয়াও। পাল্টা আঘাত হানতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কির জন্মশহর ক্রিভি রিহ-কে নিশানা করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ক্রেমলিন। ক্রিভি রিহ দেশের অন্যতম বৃহৎ ইস্পাত উৎপাদন কেন্দ্র। রুশ মিসাইল হামলায় সেখানে অন্তত ২ জন নিহত এবং ১৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ক্রেমেনচুক ও সুমি অঞ্চলেও জোরালো বিমান হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। জ়েলেনস্কি দাবি করেছেন, গত এক সপ্তাহে রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর ১,৫৫০টির বেশি ড্রোন, ১,৫৬০টি গাইডেড বোমা এবং ৬২টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিচার করে ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে অবিলম্বে অতিরিক্ত ‘এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’ সরবরাহের আকুল আবেদন জানিয়েছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট। জ়েলেনস্কি বলেন, “ইউরোপের ইন্টারসেপ্টরগুলো গোডাউনে ফেলে রাখার জন্য নয়, মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য ব্যবহার করা উচিত। রাশিয়াকে যে কোনো মূল্যে থামাতে হবে।”
এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের রেষ ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী রোমানিয়াতেও। রবিবার রোমানিয়ার আকাশসীমায় অবৈধভাবে ঢুকে পড়া একটি অজ্ঞাত ড্রোনকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে ন্যাটো (NATO) এয়ার-পুলিশিং মিশনে থাকা একটি এফ-১৮ (F-18) যুদ্ধবিমান। তবে ড্রোনটি কার ছিল, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানায়নি রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।
