রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: মাত্র ৩ দিনের বিরতি নাকি ধ্বংসলীলার শেষ? পুতিনের কঠিন শর্তে কি ফিরবে শান্তি? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দীর্ঘ চার বছর ধরে চলা ভয়াবহ যুদ্ধ কি অবশেষে শেষের পথে? রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিमीर পুতিনের সাম্প্রতিক এক মন্তব্য বিশ্বজুড়ে এমন সম্ভাবনাই উসকে দিয়েছে। পুতিন জানিয়েছেন, এই সংঘাত এখন চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগোচ্ছে। ১০০০ জন করে মোট ২ হাজার যুদ্ধবন্দি বিনিময় এবং তিন দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি এই আলোচনার পরিবেশকে আরও ইতিবাচক করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সামরিক অভিযানের পর মস্কো এখন কূটনৈতিক পথে সমাধানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
স্থায়ী শান্তির পথে মূল বাধা ও শর্তাবলি
পুতিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে সরাসরি আলোচনা তখনই সম্ভব, যখন একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির রূপরেখা তৈরি হবে। রাশিয়ার প্রধান শর্ত হলো, ইউক্রেনকে ন্যাটো (NATO) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। ক্রেমলিন মনে করে, ইউক্রেনের পশ্চিমা জোটে অন্তর্ভুক্তি রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি। এছাড়া পশ্চিমা দেশগুলোকে ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে হবে এবং রাশিয়ার নিরাপত্তা উদ্বেগকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
যুদ্ধের নেপথ্যে পশ্চিমা শক্তির ভূমিকা
বিজয় দিবসের ভাষণে পুতিন সরাসরি পশ্চিমা দেশগুলোকে এই যুদ্ধের জন্য দায়ী করেছেন। তার অভিযোগ, পশ্চিমা শক্তিগুলো ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছে। পুতিন দাবি করেন, রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার যে কৌশল পশ্চিমারা নিয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। বরং তারা নিজেরাই এখন এই সংকটের আবর্তে জড়িয়ে পড়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া তিন দিনের এই যুদ্ধবিরতিকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ চলাকালীন কোনো হামলা না করার বিষয়ে কিয়েভ এবং মস্কো উভয় পক্ষই সম্মত হয়েছে। চার বছরের রক্তাক্ত সংঘাতের পর এই সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতি এবং বন্দি বিনিময় একটি বড় রাজনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে পুতিনের নিরাপত্তা শর্তাবলি ইউক্রেন এবং পশ্চিমা বিশ্ব কতটুকু মেনে নেবে, তার ওপরই নির্ভর করছে এই মহাযুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতি।
