রাহুলকে প্রধানমন্ত্রী মানতেই হবে, মমতার কংগ্রেসে যোগদানের জল্পনায় কড়া শর্ত প্রদেশ নেতৃত্বের! – এবেলা

রাহুলকে প্রধানমন্ত্রী মানতেই হবে, মমতার কংগ্রেসে যোগদানের জল্পনায় কড়া শর্ত প্রদেশ নেতৃত্বের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন বিপর্যয় এবং দলে তীব্র ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায় এবার কি হাত শিবিরের হাত ধরতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? জাতীয় রাজনীতিতে এখন এই প্রশ্নই সবচেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিল্লিতে তৃণমূল ও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের একের পর এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক এবং তৃণমূলকে কংগ্রেসে একীভূত করার জল্পনার মাঝেই এবার কড়া অবস্থান নিল প্রদেশ কংগ্রেস। প্রদেশ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কংগ্রেসে আসতে হলে রাহুল গান্ধীকে দেশের ভাবি প্রধানমন্ত্রীর মুখ এবং দলের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিঃশর্তে মেনে নিতে হবে।

তৃণমূলের মরিয়া চেষ্টা ও দিল্লির সবুজ সংকেত

দলের অন্দরে সাঁড়াশি চাপ এবং রাজ্যে রাজনৈতিক জমি হারানোর পর থেকেই দিল্লির ১০ জনপথে তৎপরতা বাড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ বৈঠকের পর, রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক সংকট ও তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রক্ষার্থেই এই সংযুক্তিকরণের মরিয়া চেষ্টা চলছে। কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই চরম দুঃসময়ে মমতাকে গ্রহণে কিছুটা ইতিবাচক বার্তা দিলেও, এ রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ ভিন্ন মাত্রা নিচ্ছে।

প্রদেশ স্তরে তীব্র ক্ষোভ ও সম্ভাব্য প্রভাব

তৃণমূলের এই সম্ভাব্য যোগদানের জল্পনায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে প্রদেশ কংগ্রেসের অন্দরে। অধীর চৌধুরী ও আবদুল মান্নানের মতো প্রবীণ নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিগত ১৫ বছর ধরে বাংলায় তৃণমূলের অপশাসন, অত্যাচার ও দুর্নীতির দায় কংগ্রেস নিজের ঘাড়ে নেবে না। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ মেনে নেওয়ার শর্ত দেওয়ার পাশাপাশি স্পষ্ট করেছেন, আইনি জটিলতা বা দুর্নীতি থেকে বাঁচতে কেউ কংগ্রেসের ছাতার তলায় আসতে চাইলে তাঁর জন্য দরজা খোলা হবে না। এই ঘটনার ফলে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের নেতৃত্বের মধ্যে বড় ধরনের মতবিরোধ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের দ্বারা নির্যাতিত হওয়া মাঠপর্যায়ের কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়াতে পারে, যা রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক ভারসাম্যকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *