রাহুলের সভার মাঝেই মগরাহাটে কংগ্রেস প্রার্থীর ডিগবাজি, ভোটের আগে মাস্টারস্ট্রোক তৃণমূলের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাংলায় দ্বিতীয় দফার হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনের ঠিক তিন দিন আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক সমীকরণ ওলটপালট হয়ে গেল। শনিবার শ্রীরামপুরে যখন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত, ঠিক তখনই মগরাহাটে বড়সড় ধস নামল হাত শিবিরে। মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুল মজিদ হালদার আনুষ্ঠানিকভাবে দলত্যাগ করে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছেন। প্রার্থীর এই আকস্মিক দলবদলকে কেন্দ্র করে জেলায় তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
তৃণমূলের পক্ষে হাওয়া গরম
তৃণমূল প্রার্থী শামিম আহমেদের হাত থেকে ঘাসফুল পতাকা তুলে নেন আব্দুল মজিদ। তবে তিনি একা নন, তাঁর সঙ্গে প্রায় শতাধিক কংগ্রেস কর্মীও ঘাসফুল শিবিরে শামিল হয়েছেন। দলবদলের কারণ হিসেবে মজিদ জানান, কংগ্রেসের প্রার্থী হওয়া তাঁর জীবনের একটি ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ ছিল। তিনি আরও দাবি করেন যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজে অনুপ্রাণিত হয়েই তিনি ঘরওয়াপসি করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রবিবার এই এলাকাতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভা রয়েছে, আর তার ঠিক আগের দিন প্রার্থীর এই যোগদান শাসক শিবিরের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।
কংগ্রেসের অস্বস্তি ও প্রভাব
২৯শে এপ্রিলের নির্বাচনের ঠিক আগে প্রার্থীর দলবদল কংগ্রেসের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাহুল গান্ধী যখন রাজ্যে প্রচার চালাচ্ছেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই এই ‘লঙ্কাকাণ্ড’ কংগ্রেসের সাংগঠনিক দুর্বলতাকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। এই ঘটনার ফলে মগরাহাট পশ্চিমে কংগ্রেসের নির্বাচনী লড়াই কার্যত বড় ধাক্কা খেল। অন্যদিকে, তৃণমূল এই ঘটনাকে তাদের ‘উন্নয়ন ও সংগঠনের জয়’ হিসেবে প্রচার করছে, যা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোটারদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে মগরাহাট পশ্চিমের কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুল মজিদ হালদারের দলবদল।
- রাহুল গান্ধীর সভার মাঝেই কয়েকশ কর্মী নিয়ে তৃণমূলে যোগদান মজিদের।
- রবিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার আগে এই ঘটনাকে তৃণমূলের বড় জয় হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে শামিল হতেই এই সিদ্ধান্ত বলে দাবি দলত্যাগী প্রার্থীর।
