রুশ তেল কিনলেই ১০০% কর? মার্কিন বিলে নিশানায় ভারত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 16, 20268:50 pm
রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা দেশগুলির ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে বড় পদক্ষেপের পথে হাঁটছে আমেরিকা। মার্কিন কংগ্রেসে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে ‘Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026’ বিলটি। সেনেটে ৮৬-১১ ভোটে পাস হওয়ার পর বুধবার হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসেও এটি চূড়ান্ত ভোটের মুখোমুখি। এই বিলটি আইনে পরিণত হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশগুলির পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ট্যারিফ (শুল্ক) বসানোর আইনি ক্ষমতা চলে আসবে।
নিশানায় ভারতসহ ১০টি রাষ্ট্র বিলের সংশোধনীতে ভারত, চিন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, হাঙ্গেরি, সিঙ্গাপুর এবং কাজাখস্তানের মতো ১০টি দেশের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থ জোগাতে রাশিয়া যেন তেল রফতানির আয় ব্যবহার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মূল উদ্দেশ্য। এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত তথাকথিত ‘শ্যালো ফ্লিট’ জাহাজের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
ভারতের অবস্থান বনাম আমেরিকার অসন্তোষ ২০২২ সালে ইউক্রেন অভিযান শুরুর পর পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল কেনা বাড়ায় দিল্লি। ভারত সরকারের যুক্তি—দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থ ও অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে ওয়াশিংটনের দাবি, ভারত বা চিনের তেল কেনার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ মস্কোর সামরিক শক্তিকে শক্তিশালী করছে।
ভারতের বাণিজ্যে কী প্রভাব পড়তে পারে?
- রফতানি বাজারে ধাক্কা: ট্রাম্প প্রশাসন এই আইন প্রয়োগ করে ১০০% শুল্ক চাপালে মার্কিন বাজারে ভারতীয় সামগ্রীর আমদানি খরচ এক ধাক্কায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে, যা ভারতীয় রফতানিকারকদের বিশ্ব প্রতিযোগিতায় বড় ক্ষতির মুখে ফেলবে।
- প্রেসিডেন্টের ইচ্ছেধীন সিদ্ধান্ত: বিল পাস হওয়া মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুল্ক কার্যকর হওয়া নয়। এটি মূলত প্রেসিডেন্টকে পদক্ষেপ নেওয়ার বিশেষ এখতিয়ার দেবে। জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে প্রেসিডেন্ট নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার ক্ষমতাও হাতে রাখবেন।
মার্কিন অন্দরেই বিল নিয়ে প্রশ্ন আইনপ্রণেতাদের একাংশ বিলটির বিরোধিতা করছেন। হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির বর্ষীয়ান ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিক্সের মতে, প্রেসিডেন্টকে এককভাবে এতটা বিস্তৃত ট্যারিফ আরোপের ক্ষমতা দেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। হাউসের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে বিলটি রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের জন্য হোয়াইট হাউসে পাঠানো হবে।
