রেড রোডে মোদীর যোগ দিবস ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক, খোদ মুখ্যমন্ত্রী দিলেন জবাব – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতায় এক নজিরবিহীন মেগা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর এবারই প্রথম বাংলায় এত বড় পরিসরে যোগ দিবস উদযাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবারের মূল অনুষ্ঠানে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তবে এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই কলকাতার ঐতিহাসিক ‘রেড রোড’ টানা সাত দিন বন্ধ রাখার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।
বর্ষার কারণে রেড রোডকে পছন্দ প্রশাসনের
নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করেছেন, কেন এই মেগা অনুষ্ঠানের জন্য রেড রোডকেই বেছে নেওয়া হলো। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে বর্ষার মরসুম শুরু হয়ে যাওয়ায় মাঠ বা অন্যান্য খোলা জায়গায় জল-কাদার সমস্যা হতে পারে। কর্দমাক্ত মাটির কারণে সাধারণ মানুষ ও অতিথিদের যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, সেই নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই পাকা রাস্তার সুবিধা যুক্ত রেড রোডকে মূল ভেন্যু হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এবারের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইতিমধ্যেই প্রায় ৩৮ হাজার মানুষ নাম নথিভুক্ত করেছেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।
যানজট ও রাজনৈতিক দ্বিচারিতার অভিযোগ
প্রধানমন্ত্রীর এই যোগাসন কর্মসূচির জন্য কলকাতার অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ততম রাস্তা রেড রোড টানা সাত দিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। বিরোধীদের অভিযোগ, বর্তমান সরকার যেখানে রাস্তায় নামাজ পড়ার ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, সেখানে কোন যুক্তিতে একটি অনুষ্ঠানের জন্য শহরের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত রাস্তাটি এত দিন ধরে আটকে রাখা হচ্ছে? সরকারের এই সিদ্ধান্তকে চরম ‘দ্বিচারিতা’ বলে কটাক্ষ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। যদিও আদালত কিছু নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে রেড রোডে অনুষ্ঠান করার অনুমতি দিয়েছে।
টানা সাত দিনের অচলাবস্থা ও ট্র্যাফিক বিপর্যয়
টানা সাত দিন রেড রোড বন্ধ থাকার কারণে কলকাতার ট্র্যাফিক ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, ইজেডসিসি বা বিকল্প রাস্তাগুলোতে গাড়ির চাপ অস্বাভাবিক হারে বাড়বে, যা কর্মব্যস্ত দিনগুলোতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। প্রশাসনের তরফ থেকে বেশ কিছু রাস্তায় রুট পরিবর্তনের গাইডলাইন দেওয়া হলেও, সপ্তাহের শুরুতে কলকাতার বুক চিরে এই বিশাল ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ করা কলকাতা পুলিশের ট্র্যাফিক বিভাগের কাছে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।
