রেফার ও দালাল রুখতে কড়া পদক্ষেপ সরকারের, স্বাস্থ্য ভবনে চালু হচ্ছে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের সরকারি চিকিৎসা পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং রোগী হয়রানি বন্ধে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। হাসপাতালগুলিতে দালাল চক্রের দাপট ও মুমূর্ষু রোগী রেফারের মানসিকতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই ব্যবস্থার ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাতে স্বাস্থ্য ভবনে একটি বিশেষ ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আধুনিক এই কন্ট্রোল রুমটি পরিচালনার জন্য পেশাদার কর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে, যা সরাসরি জেলা হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবে।
কন্ট্রোল রুমের নজরদারি ও বেসরকারি হাসপাতালের ভূমিকা
নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি, রোগীদের পরিষেবা প্রাপ্তি এবং সামগ্রিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে। সরকারি হাসপাতালের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে এক অভিনব সমন্বয় নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। যেসব বেসরকারি হাসপাতাল অতীতে সরকারের কাছ থেকে স্বল্প মূল্যে জমি নিয়েছে, সরকারি হাসপাতালে শয্যাসংকট হলে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া রোগীদের সেখানে পাঠানো হবে। নিয়মানুযায়ী, এই রোগীদের জন্য বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে ১৫ শতাংশ শয্যা সংরক্ষণ করতে হবে এবং তারা বিনামূল্যে পরিষেবা দিতে বাধ্য থাকবে। রেফারের গাফিলতি বরদাস্ত না করার প্রমাণস্বরূপ ইতিমধ্যেই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের এক এমএসভিপি-কে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
ন্যাশনাল হেলথ মিশন ও আয়ুষ্মান ভারতের যুগান্তকারী প্রভাব
রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে। চলতি বছর থেকে পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর হচ্ছে ‘ন্যাশনাল হেলথ মিশন’, যার অধীনে ২১০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং প্রাথমিক কিস্তির ৫২৭ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই এসে পৌঁছেছে। এর পাশাপাশি ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৯৭৬ কোটি টাকা। এর ফলে রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ পরিবারের ৬ কোটিরও বেশি মানুষ দেশজুড়ে বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন, যা পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে।
চিকিৎসা ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, দক্ষিণ দিনাজপুর ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় নতুন মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করা হচ্ছে। একই সাথে রাজ্যে ৪৬৭টি প্রধানমন্ত্রী জনওষুধি কেন্দ্র চালু হতে চলেছে এবং হাসপাতালগুলির নতুন নামকরণ হচ্ছে ‘আয়ুষ্মান মন্দির’। সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে গ্রামীণ ও জেলা স্তরের রোগীরা নিজ এলাকাতেই উন্নত চিকিৎসা পাবেন এবং রেফার করার প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
