রেশন কার্ড থাকলেই আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা! ২৫ জুনের মধ্যে ই-কেওয়াইসির কড়া নির্দেশ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেই সাধারণ মানুষের জন্য খুলে গেল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্পের দরজা। পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। কেন্দ্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই প্রকল্প দ্রুত সাধারণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রশাসনিক স্তরে চূড়ান্ত তৎপরতা শুরু করেছে নবান্ন।
জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের (NFSA) ডেটাবেসকে মূল ভিত্তি হিসেবে ধরে উপভোক্তা নির্বাচনের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা (AAY), বিশেষ অগ্রাধিকার প্রাপ্ত (SPHH) এবং অগ্রাধিকার প্রাপ্ত (PHH) রেশন কার্ড হোল্ডারদের তথ্য যাচাই করেই আয়ুষ্মান ভারতের উপভোক্তা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হবে। এর ফলে রাজ্যের বিশাল সংখ্যক সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
মাঠে নামছে টিম, ২৫ জুনের কড়া ডেডলাইন
রাজ্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের প্রধান সচিবের তরফে কলকাতা পুরসভার কমিশনার, সমস্ত জেলা শাসক ও মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের কাছে বিশেষ নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। গত ৯ জুন থেকে রাজ্যজুড়ে উপভোক্তাদের ভেরিফিকেশন এবং ই-কেওয়াইসি (e-KYC) প্রক্রিয়া জোরকদমে শুরু হয়েছে। এই কাজে কোনো রকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করার জন্য আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত কড়া ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছে স্বাস্থ্য ভবন।
দুর্নীতি রুখতে চার দফা কড়া গাইডলাইন
উপভোক্তা যাচাইকরণ প্রক্রিয়াটি মসৃণ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে জেলা প্রশাসন ও পুরসভাকে চার দফা সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্লক ও পুরসভা স্তরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফিল্ড লেভেল ওয়ার্কারদের যাচাইয়ের কাজ তদারকি করবেন ‘গ্রুপ-বি’ পদমর্যাদার আধিকারিকরা। ফিল্ড ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য দফতরের নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
যাচাই চলাকালীন যোগ্য উপভোক্তাদের নাম ডেটাবেসে থাকা সত্ত্বেও ই-কেওয়াইসি বকেয়া থাকলে, তা অনস্পট সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সঠিক উপভোক্তা শনাক্তকরণের পর সংগৃহীত সমস্ত তথ্য অবিলম্বে সরকারি ডিজিটাল পোর্টাল বা নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনে রিয়েল-টাইম আপডেট করতে হবে। আবাস ও সড়ক যোজনার পর আয়ুষ্মান ভারত চালুর এই দ্রুত পদক্ষেপ, নতুন সরকারের সঙ্গে দিল্লির সমন্বয়ের একটি বড় প্রশাসনিক মাস্টারস্ট্রোক বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
